ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে দুই শিশুসহ চার শরণার্থীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

ছোট নৌকায় চড়ে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে যেতে গিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে ডুবে মৃত্যু হলো চার শরণার্থীর। এর মধ্যে দুজন শিশু। এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ বলে মনে করছে ফ্রান্সের উদ্ধারকারী দল। বুধবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের অনলাইন প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

ইংলিশ চ্যানেল পার করে ইদানীং বহু শরণার্থী যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগেও বেশ কিছু শরণার্থী ছোট নৌকা ভাড়া করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বহু শরণার্থী। এর আগেও নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছে অনেকের।

ফ্রান্স প্রশাসন জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরাসি বন্দর ডানকার্কে খবর পৌঁছায় যে, সামান্য দূরে একটি নৌকাডুবি হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল দিয়ে একটি নৌকা পার হওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনাটি তাদের চোখে পড়ে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একজনের মৃরদেহ উদ্ধার করা হয় পানি থেকেই। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। মারা যান এক নারী। প্রায় ১৫ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে বেশ কিছু শিশুও আছে।

উদ্ধারকারীদের ধারণা এখনো সবাইকে উদ্ধার করা যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে একটি শিশু আছে। কীভাবে ঘটনা ঘটল, কেন ওই শরণার্থীরা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিল, এ পর্যন্ত কোনো তথ্য জানায়নি ফরাসি প্রশাসন। ঘটনাস্থলে ফ্রান্সের চারটি জাহাজ এবং বেলজিয়ামের একটি হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নৌকাডুবির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ঘটনার তদন্তে ফ্রান্সকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে টুইট করেছেন তিনি। তবে ইংলিশ চ্যানেলে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল না। অতীতে সাঁতার কেটে তিরিশ কিলোমিটার ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন শরণার্থীরা।

সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স জানিয়েছিল ১৩০০ শরণার্থীকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সময় আটক করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এসএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]