মহানবীকে (সা.) অসম্মান করা মানে সব মুসলিমকে অসম্মান : রুহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) অসম্মান করা মানে সব মুসলিমকে অসম্মান করা। ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ফ্রান্সের আচরণের সমালোচনা করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরার। 

ফ্রান্সে মহানবীকে (সা.) ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রদর্শনে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন মুসলমানদের কাছে অনৈতিক ও অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। 

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, মূল্যবোধের প্রতি সম্মান এবং নৈতিকতার বিবেচনা করেই বাক-স্বাধীনতা প্রকাশ করতে হবে।

ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পশ্চিমাদের বুঝতে হবে যে, বিশ্বের সব মুসলিম এবং সব স্বাধীনতা প্রেমী মহানবীকে (সা.) ভালোবাসেন। তাকে অপমান করা মানে সব মুসলিমকে অপমান করা। মহানবীকে (সা.) অপমান মানে সব নবীকে অপমান করা, মানবিক মূল্যবোধকে অপমান করা।

রুহানি বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন মানবতার পথ প্রদর্শক। তাই প্রত্যেক ইউরোপীয় মহানবীর (সা.) কাছে ঋণী। এদিকে, বুধবার তেহরানে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ ইরানিরা। তারা ম্যাক্রোঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন। সে সময় অনেক বিক্ষোভকারী ফরাসি প্রেসিডেন্টের ছবি পুড়িয়েছেন।

গত ১৬ অক্টোবর প্যারিসের উপকণ্ঠে দেশটির এক স্কুল শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত কার্টুন শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনের কারণে ক্ষুব্ধ ওই কিশোর স্কুল শিক্ষককে হত্যা করেন।

পরে ফ্রান্সের সরকার ওই স্কুল শিক্ষককে দেশটির সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদকে ভূষিত এবং বিভিন্ন ভবনের গায়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত সেই কার্টুনের প্রদর্শন শুরু করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্টুনের প্রদর্শনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।

ফরাসি পত্রিকা শার্লি এবদোও সম্প্রতি মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী (সা.)-এর অবমাননাকর কার্টুনগুলো পুনর্মুদ্রণ করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সব ধরনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও কূটনৈতিক রীতিনীতি ভুলে ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশে এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশ ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে এবং ম্যাক্রোঁকে তার ইসলাম-বিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, ফ্রান্সে কার্টুন প্রদর্শনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অবস্থানের সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বুধবার বলেছেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট চরম বোকামি করেছেন।

তিনি ফরাসি তরুণদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করুন যে, তিনি কেন বাক-স্বাধীনতার নামে মহানবীকে (সা.) অসম্মানের ঘটনায় সমর্থন করলেন। তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতা মানে কি অন্য কাউকে অপমান করা?

তিনি আরও বলেন, এটা কি চরম বোকামি নয়? ফ্রান্সের যেসব মানুষ ম্যাক্রোঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছেন তিনি তার এই বোকামি কাজের মাধ্যমে তাদের অপমান করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কার্টুন প্রদর্শন ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের ঘটনায় ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ইসলামবিরোধী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মুসলিমদের অবমাননা করা সুবিধাবাদী বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহারের শামিল।

টিটিএন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]