ফ্রান্সে নতুন নারীবাদের উত্থান: নারীর মনে পুরুষের জায়গা হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০

নারীকে মুক্তি দেয়ার অর্থ পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়াকে অস্বীকার করা, তাকে (পুরুষকে) অস্বীকার করা নয়। ৭০ বছরেরও বেশি আগে ফরাসি নারীবাদের গডমাদার নামে পরিচিত সিমন দ্য বুভার তার ‘দ্য সেকেন্ড সেক্স’ বইয়ে এ কথা লিখেছিলেন। তবে এখনকার সব ফরাসি নারীবাদী তার এ মতের সঙ্গে একমত নন।

‘লেসবিয়ান জিনিয়াস’ নামে একটি নতুন বইয়ে বলা হয়েছে, নারীদের উচিত তাদের জীবন থেকে পুরুষদের পুরোপুরি বিতাড়িত করা। এর লেখক লেসবিয়ান সমাজকর্মী এবং প্যারিসের সিটি কাউন্সিলর এলিস কফিন বলেছেন, তিনি আর পুরুষদের লেখা বই পড়েন না, পুরুষদের নির্মিত চলচ্চিত্র দেখেন না বা পুরুষদের রচিত গানও শোনেন না। সুতরায় তার জীবনে ভল্টেয়ার, ট্রাফাউট বা ডাফ্ট পাঙ্ক আর নেই। এলিস ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমাদের মন থেকে পুরুষদের নির্মূল করা প্রয়োজন।’

এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক। পুরুষদের কাছ থেকে নয়, অন্য ফরাসি নারীবাদীদের কাছ থেকে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর সাবেক লিঙ্গ সমতা বিষয়ক মন্ত্রী মারলিন শিয়াপ্পা এলিস কফিনকে ‘এক জাতীয় বর্ণবাদ’ প্রচারের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।

women-3

রেডিওর উপস্থাপক সোনিয়া মাব্রুক লেখককে প্রশ্ন করেছেন, তিনি ‘অশ্লীলতা’ ও ‘সর্বগ্রাসীতার রূপ’ প্রচার করছেন কি না? এলিস কফিন যেখানে পড়াতেন প্যারিসের সেই ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় তার চুক্তি নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ফ্রান্স এ বিশ্বকে যুদ্ধ-পরবর্তী নারীবাদী তত্ত্ব দিয়েছে। কিন্তু আজ পোশাক, সম্মোহন এবং নারীত্ব সম্পর্কে অলিখিত নীতিগুলো একটি দীর্ঘকালীন আক্রমণাত্মক যৌন সংস্কৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করছে। ফ্রান্সে ‘মি টু’ (#me_too) বাধার মুখে পড়েছিল। সেখানে ফেমিনিসাইড বা ঘরোয়া সঙ্গীর হাতে হত্যার হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

তবে সেখানকার তরুণ প্রজন্ম লড়াইয়ে ফিরেছে। চলতি বছরের শুরুতে রোমান পোলানস্কিকে অস্কারের ফরাসি সংস্করণ সিজার পুরস্কারে ভূষিত করার পর অনেকে রাস্তায় নেমেছিল। ফরাসি এ চলচ্চিত্র নির্মাতা এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর আমেরিকা পালিয়ে গিয়েছিলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ নারীর বিরুদ্ধে যৌনতা ও সহিংসতা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে শুধু সমতার প্রচারে এ জাতীয় প্রচেষ্টাকে ভীরু পদক্ষেপ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন উগ্র সংস্কারবাদীরা।

women-1

বিতর্কিত নারীবাদী লেখক এলিস কফিনের দাবি, নারীর বিরুদ্ধে পুরুষদের মাধ্যমে পরিচালিত বাস্তবিক যুদ্ধে আরও সহিংস শক্তির প্রয়োজন।

ফ্রান্সে নতুন নারীবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলিস কফিন। তার মতে, ক্ষমতা শিকারিদেরই সুরক্ষা দেয়।

তবে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে একটি বইয়ের লেখক অ্যাগনেস পোইরার বলেছেন, দ্য বুভার হয়তো গোটা পুরুষ জাতির বিরুদ্ধে এলিসের এই বিদ্রোহকে হাস্যকর বলে মনে করেতেন। বুভার নিজেও ছিলেন বাইসেক্সুয়াল (উভকামী)। জন-পল সার্ত্রের সঙ্গে তার কয়েক দশকের উন্মুক্ত সম্পর্ক ছিল। দ্য বুভার রীতিনীতির বিরোধী ছিলেন এবং ফরাসি নারীদের নিজস্ব ভাষা দিয়েছেন। তবে তিনি ঠিকই বিছানা ও কথোপকথনে পুরুষ-নারী উভয়কেই রেখেছিলেন।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

কেএএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]