শেষ মুহূর্তের প্রচার যুদ্ধে ট্রাম্প-বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২০

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলো চষে বেড়াচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের মসনদে বসার দৌড়ে এবারের নির্বাচনে এসব রাজ্য প্রধান চাবিকাঠির ভূমিকা পালন করতে পারে।

দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের আইওয়াতে আক্রমণাত্মক ভাষায় রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। এই রাজ্যে গতবারের নির্বাচনে ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মিনেসোটায় গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; চার বছর আগের নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জয় পেয়েছিলেন সেখানে।

মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। তবে বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যের ভোটার কাকে ভোট দেবেন সেবিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় ট্রাম্প সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ধারণা করা হলেও এসব ভোটার উভয় প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন অথবা তাদের সিদ্ধান্তও শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে একশ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম আগাম ভোটের সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির এবারের নির্বাচনে অন্তত সাড়ে ৮ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন; যাদের মধ্যে অন্তত সাড়ে ৫ কোটি ভোট দিয়েছেন ডাকযোগে।

প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় গতি বেড়েছে ডেমোক্র্যাট শিবিরের। তবে করোনাভাইরাসের বিধি-নিষেধের কারণে ডেমোক্র্যাট দলীয় জো বাইডেন তার নিজ এলাকা উইলমিংটনের ডেলাওয়ারেই বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে শুক্রবার আইওয়া, উইসকনসিন ও মিনেসোটায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন জো বাইডেন। এর আগে শেষবারের মতো আইওয়াতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা গত জানুয়ারিতে চালিয়েছিলেন জো বাইডেন; সেই সময় তার প্রচারণা কার্যক্রম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল। কারণ সেই সময় ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ভোটে হেরে গিয়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার মিনেসোটা রাজ্যের ফেয়ারগ্রাউন্ডের বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে প্রায় ২২ মিনিটের প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

জো বাইডেন ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এই ছেলেরা খুব নম্র নয়। তারা ট্রাম্পের মতোই। বাইডেন করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানোর সময় আবারও ট্রাম্প সমর্থকরা বিশঙ্খলতা তৈরির চেষ্টা করেন। ডেমোক্র্যাট দলীয় এই প্রার্থী তখন বলেন, কুৎসিত লোকজনের হর্ন বাজানোর মতো এটা কোনও রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়।

তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাদা পতাকা উড়িয়েছেন এবং এই ভাইরাসের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন। কিন্তু আমেরিকার জনগণ করোনার লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দেবে না। তারা, এমনকি আমিও হাল ছাড়বো না। মিনেসোটায় জনমত জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হওয়া থেকে মাত্র কয়েকদিন দূরে রয়েছেন বাইডেন।

রক্ষণশীল রাজ্য আইওয়া এবং জর্জিয়ায় ১৯৯২ সালের নির্বাচনে বিল ক্লিনটনের পর এখন পর্যন্ত একবারও ডেমোক্র্যাট দলীয় কোনও প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। তবে এবারের নির্বাচনে সেই চিত্র পাল্ট যেতে পারে বলে জনমত জরিপগুলোতে আভাষ মিলছে। এমনকি টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাট শিবির জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে; ১৯৭৬ সালের জিমি কার্টারের পর এই রাজ্যেও কখনও দাঁড়াতে পারেনি ডেমোক্র্যাট শিবির।

এসব রাজ্যে রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ধাক্কা খান, তাহলে হোয়াইট হাউসে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে জনমত জরিপে এসব রাজ্যে ট্রাম্প এবং বাইডেনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

টেক্সাসের ৯০ লাখের বেশি ভোটার ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন; যা ২০১৬ সালের নির্বাচনের পড়া ভোটের চেয়ে বেশি।

মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনের মতো ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে সম্প্রতি মনোনিবেশ করেছেন রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার বছর আগের নির্বাচনে এসব রাজ্যে জয় পেয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার মিনেসোটায়ও গিয়েছিলেন তিনি; যদিও এই রাজ্যে ১৯৭২ সালের পর রিপাবলিকান দলীয় কোনও প্রেসিডেন্ট জয় পাননি।

চার বছর আগে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটনের কাছে মিনেসোটায় হেরে যান ট্রাম্প। যে কয়েকটি রাজ্যকে এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবির পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে; মিনেসোটা সেসবের একটি। মিশিগানের ডেট্রোয়টে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা (মিনিসোটায়) অত্যন্ত জনপ্রিয়। কারণ আমি মিনিয়াপোলিস দুর্যোগের সময় সহায়তা করেছিলাম।

কিছুদিন আগে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠে মিনিয়াপোলিস। ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করে সেই সময় পরিস্থিতি শান্ত করেছেন বলে দাবি করেন।

নির্বাচনের আর মাত্র দু'দিন বাকি রয়েছে। এর আগেই মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট আরও অন্তত ১৩টি নির্বাচনী সমাবেশ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরমধ্যে পেনসিলভানিয়ায় শনিবার তিনটি, রোববার মিশিগান, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় পাঁচটি এবং নির্বাচনের আগের দিন নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন এবং মিশিগানে পাঁচটি নির্বাচনী সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প।

সূত্র : বিবিসি, নিউইয়র্ক পোস্ট।

এসআইএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]