ত্রিপুরায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলি, নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৭ এএম, ২২ নভেম্বর ২০২০

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কাঞ্চনপুরে ব্রু উপজাতির মানুষদের পুনর্বাসন দেয়ার বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে শ্রীকান্ত দাস নামে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিজোরাম থেকে প্রায় দুদশক আগে পালিয়ে আসা ব্রু উপজাতির প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে ত্রিপুরায় পুনর্বাসন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এজন্য গত জানুয়ারিতে কেন্দ্র, রাজ্য ও উপজাতির নেতাদের মধ্যে এক চুক্তিও হয়। কিন্তু কাঞ্চনপুরের স্থানীয় মানুষরা অত সংখ্যক শরণার্থীকে সেখানে পুনর্বাসন দেয়ার বিরোধিতা করছেন। গত সোমবার থেকে কাঞ্চনপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ যেমন চলছে, তেমনই নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই রোজমিছিল করছে হাজার হাজার নারী-ছাত্রছাত্রী।

শনিবার পানিসাগর এলাকায় এরকমই একটি মিছিলের ওপরে গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশ বলছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল করা হচ্ছিল। আর সেখান থেকে পুলিশের ওপরে পাথর ছোঁড়া হয়। সেজন্য পুলিশ গুলি চালাতে হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা সুশান্ত বিকাশ বড়ুয়া বলেন, কোনো রকম প্ররোচণা ছাড়াই গুলি চালিয়েছে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস। যদি ওদের কথা মেনেও নিই যে মিছিল থেকে পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, তাহলে তাদের কাছে কি কাঁদানে গ্যাস বা জলকামান ছিল না? পাথর ছোঁড়া হলেও সরাসরি গুলি চালিয়ে দিতে হবে?

পুলিশের গুলিতে একজনের মৃত্যুর পরে উত্তর জেলার কাঞ্চনপুর আর সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানো হয়েছে

গত ২৩ বছর ধরে ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তের কাঞ্চনপুরে রয়েছেন বহু ব্রু উপজাতি শরণার্থী। তারা গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে মিজোরাম ছেড়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিল। পূর্বতন বাম সরকারের আমলে তাদের শরণার্থী শিবিরে রাখা হয়েছিল। ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম জমানার অবসান হয়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার।

এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]