হোয়াইট হাউসের প্রশংসা করলেন বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মত-পার্থক্যের জের ধরে এতদিন নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে, ক্ষমতা হস্তান্তরে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বাইডেন বলেছেন, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি এবং পরবর্তীতেও হবে না বলে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে উল্লেখ করেছেন বাইডেন।

আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। ইতোমধ্যেই তিনি তার আসন্ন মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর গত সোমবার ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা সংস্থার ‘যা করার প্রয়োজন করুক’। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনে পরাজয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

এদিকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাইডেন টিম। এক বিবৃতিতে তারা বলছে, মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে গতি আনাসহ জাতির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় এই সিদ্ধান্ত ছিলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় থাকা জিএসএ বাইডেন শিবিরকে জানিয়েছেন যে, তারা প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। প্রশাসক এমিলি মারফি বলেছেন, তিনি নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য ৬৩ লাখ ডলার অবমুক্ত করেছেন।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বাইডেন জানান, তিনি এখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে তার দলকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হলেও এর কারণে তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাইডেন বলেন, এটা ধীর গতিতে হয়েছে। তবে এটা শুরু হয়েছে এবং আরও দু'মাস বাকি আছে। সবকিছু দ্রুত গতি করতে পারব এমন সক্ষমতার কথা চিন্তা করে আমার ভালো লাগছে।

আমেরিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই ঘোষণা দিয়ে তিনি বলছেন, বিশ্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নয় বরং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তুত তারা। বাইডেনের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী নিয়োগের অনুমোদন পেলে এভ্রিল হাইনেস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রথম নারী পরিচালক। আলেহান্দ্রো মায়োর্কাস হবেন প্রথম লাতিনো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান।

এছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন থেকে সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য পেতে শুরু করবেন জো বাইডেন। এখন থেকে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক হুমকি এবং নানা বিষয়ের তথ্যের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দায়িত্বভার গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলারের তহবিল পাবেন।

ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ছয় পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করেছেন বাইডেন। অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জন কেরিকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দূত, এভ্রিল হাইনেসকে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স প্রধান,
আলেহান্দ্রো মায়োর্কাসকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান, জ্যাক সুলিভাননে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং লিন্ডা থমাস-গ্রীনফিল্ডকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাইডেন।

ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক প্রধান জ্যানেট ইয়েলেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই ঘোষণা এখনও আসেনি। জন কেরি অথবা সুলিভান ছাড়া অন্যসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদনের দরকার হবে। তবে সাধারণত কোন নিয়োগ প্রত্যাখ্যাত হয় না। যদিও সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে বেশ কিছু মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল।

টিটিএন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]