গ্রামে হিন্দু আর কেউ নেই, এগিয়ে এলেন মুসলিমরাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসানসোলের একটি গ্রামে বসবাস করে একটি মাত্র হিন্দু পরিবার। শনিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সেই পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রামধনু রজকের (৮০) মৃত্যু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি জেনে যান গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা। তারপর গ্রামের সবার সম্মতিতে হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী তাকে সৎকারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আসানসোলের জামুরিয়া থানার অন্তর্গত গ্রামটির নাম দেশেরমোহন।

রাতেই প্রতিবেশীরা খবর দেন রামধনু রজকের ছেলে ও মেয়েদের। সকালে তার এক ছেলে গ্রামে আসেন। বাকিরা অন্য রাজ্যে থাকায় তাই সৎকারের জন্য আসতে পারেননি।

গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফিরদৌস জানান, দেশেরমোহন গ্রামে মোট পরিবার ২৩০টি। তার মধ্যে একটি মাত্র পরিবার হিন্দু। কয়েকদিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে রামধনু রজক (৮০) অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্তানরা দূরে থাকায় তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মুসলিম প্রতিবেশীরাই। দুর্গাপুরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষে রানীগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মুবারক জানান, দেশেরমোহন গ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুরো এলাকার কাছে দৃষ্টান্ত। মৃত ব্যক্তি ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু হলেও আমাদের গ্রামেরই একজন সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন। এই গ্রাম প্রমাণ করল, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। সে হিন্দু হোক, মুসলিম হোক বা অন্য যে ধর্মেরই হোক না কেন।

এসএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]