ইরান নাকি সৌদি, ভূরাজনীতির মারপ্যাঁচে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি অনেকটাই দ্বিবিভক্ত। ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে আরব বিশ্বের। তেহরানকে চাপে রাখতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে সৌদি আরব-সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কিছুদিনের মধ্যেই আসছে নতুন সরকার। ইরান-এশিয়া বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন কী নীতি নেবে তা নিয়ে সারাবিশ্বে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশ্ব রাজনীতির এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ছে এশীয় পরাশক্তি ভারতের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা বাড়াচ্ছে ভারত। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো যৌথ নৌমহড়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণে।

নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত সৌদির রাষ্ট্রদূত সৌদ মহম্মদ আল-সাতি সম্প্রতি বলেছেন, গত ১০ বছরে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ঘনিষ্ঠ হয়েছে কৌশলগত সম্পর্ক। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা সব দিকেই বেড়েছে পারস্পরিক সহযোগিতা।

jagonews24

ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, ইসলামিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো মোদি সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি আরব-ইরান বিরোধ বেড়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সৌদি আরব ও সংযু্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ইরানকে কোণঠাসা করতে মরিয়া। আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে বসার পর ইরানের সঙ্গে ভেঙে যাওয়া পরমাণু চুক্তি যেন আবার জোড়া না লাগান, সেই চেষ্টা করছে আরব এবং ইসরায়েল।

সপ্তাহখানেক আগেই তেহরানের কাছে ইরানের এক শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীকে গুপ্তহামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এ হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ঘটিয়েছে।

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যা ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। যদি এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের একপ্রকার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনাও বিনষ্ট হবে।

jagonews24

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একমাত্র সাফল্য পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। যদিও ভারত এক দেশের সঙ্গে শত্রুতার বিনিময়ে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন চায় না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক রেখেছে নয়াদিল্লি। শক্তি-নির্ভরতা তো রয়েছেই, ভারতের কাছে ইরানের চাবাহার বন্দরের গুরুত্বও অনেক।

এর মধ্যে আবার ইরান যোগ দিয়েছে তুরস্কের সঙ্গে, যাদের সঙ্গে ভারতের পুরনো শত্রু পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের মতো তুরস্কও ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়েছে, যা মোদি সরকারের জন্য বেশ অস্বস্তিকর।

এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখা, একইসঙ্গে ইরানবিরোধী শক্তি সৌদি আরবেরও ঘনিষ্ঠ হওয়া ভারতের জন্য আসলেই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]