থাই রাজার অবমাননাকর ভিডিও শেয়ার করায় ৪৩ বছরের জেল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও শেয়ার করায় ষাটোর্ধ্ব এক নারীকে সাড়ে ৪৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। অবশ্য, প্রথমে তার সাজা ছিল ৮৭ বছর, কিন্তু দোষ স্বীকার করায় তা অর্ধেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের ইতিহাসে রাজাকে অসম্মান করার দায়ে এটাই সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের রেকর্ড।

আল জাজিরার খবর অনুসারে, মঙ্গলবার ব্যাংককের একটি ফৌজদারি আদালত ওই নারীকে ২৯টি ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত করেন। তার অপরাধ ছিল ফেসবুক ও ইউটিউবে রাজার জন্য অবমাননাকর একটি ভিডিও শেয়ার করা।

জানা যায়, ২০১৪ সালে বর্তমান থাই প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুত চান ওচার নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সরকারবিরোধী মতবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দেশটিতে। সেসময়ই রাজাকে অপমান করার অভিযোগে মামলা হয় আনচান নামে ওই নারীর বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জেলেই ছিলেন তিনি।

প্রথমে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন ওই নারী। পরে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হলে দোষ স্বীকার করে নেন তিনি।

jagonews24

ওই নারীর আশা ছিল, শুধু ভিডিও শেয়ার করেছেন, সেটি আপলোড করেননি বা পোস্ট করেননি; একারণে আদালত হয়তো তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।

আনচান বলেন, আমি ভেবেছিলাম, এটা কিছুই না। অনেক লোক এটা শেয়ার করেছে আর শুনেছে। সেই লোক (ভিডিওনির্মাতা) এটা করেছে বহু বছর ধরে। একারণে আমি এতদূর না ভেবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলাম।

এ নারী জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে সরকারি চাকরি করেছেন এবং অবসর নেয়ার মাত্র এক বছর আগেই গ্রেফতার হন। একারণে তার পেনশন বাতিল হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ৬০-৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধা।

jagonews24

থাইল্যান্ডের লেসে-ম্যাজেস্তি আইন অনুসারে, রাজাকে অপমান করলে প্রতি অপরাধে তিন থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এটি শুধু ফেসবুকে লাইক-কমেন্ট করলেই সাজা দেয়ার জন্য বিতর্কিত নয়, এই আইনে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে তিনি কয়েক বছর শুধু আইনি প্রক্রিয়ার জেরেই বন্দি থাকতে পারেন।

বিতর্কিত এই আইনে দেশটিতে এর আগে সর্বোচ্চ সাজার রেকর্ড ছিল ৩৫ বছরের। ২০১৭ সালে এক ব্যক্তি রাজাকে অপমান করার দায়ে ৭০ বছরের কারাদণ্ড পান। পরে দোষ স্বীকার করায় সাজা অর্ধেক কমিয়ে দেন আদালত।

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]