মার্কিন মসনদে বাইডেন : বিশ্বের শান্তিকামীরা আতঙ্কে

ইমাম হোসাইন সোহেল
ইমাম হোসাইন সোহেল ইমাম হোসাইন সোহেল
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

চার বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু করেছিলেন জাতীয়বাতাদী স্লোগান ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দিয়ে। চার বছরে হাডসন নদীর পানি অনেক গড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয়তাবাদীর ধুয়ো তুলে মার্কিনিদের ভাগ্য কতটা পরিবর্তন করেছিলেন, সেটা তাদের আলোচনার বিষয়; কিন্তু বিশ্বে যে এরই মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, সেটা তো দিব্য চোখেই দেখা যায়।

চার বছর পর, ৭৮ বছর বয়সী জো বাইডেন স্লোগান তুলেছেন, ‘রিস্টোর ইমেজ অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বুকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ তথা সম্মান এবং মর্যাদার যে ক্ষতি করে গেছেন, বাইডেনের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সেই ইমেজ পুনরুদ্ধার করা। নির্বাচনের আগে বাইডেন বারবারই বলেছেন, “বিশ্বের বুকে আমেরিকার ‘মর্যাদাপূর্ণ নেতৃত্ব’ প্রতিষ্ঠাই হবে তার বিদেশ নীতির প্রধান লক্ষ্য।”

জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই গত নভেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটোরিয়াল বোর্ড একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল। যেটার শুরুতেই লেখা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বের বুকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্মানহানি হয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করবেন।’

ট্রাম্পের বিদায় এবং জো বাইডেনের নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্বে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, ‘কেমন হবে আগামীর বিশ্ব? জো বাইডেনের বৈশ্বিক নীতি কী হবে, কীভাবে তিনি নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্ব বিনির্মাণে কাজ করে যাবেন?’ মূলত এসব বিষয়ের প্রতিই সারাবিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে।

jagonews24

নিউইয়র্ক টাইমসের সেই নিবন্ধের শিরোনামই ছিল চমকে ওঠার মতো। ‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার দ্যাট প্রেসিডেন্ট বাইডেন উইল ইনহেরিট।’ নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার (নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা) তৈরিতে উত্তরাধিকারী হবেন বাইডেন। যুদ্ধবাজ জর্জ ডব্লিউ বুশ তথাকথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের মাধ্যমে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের সূচনা করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট হলেও ওবামা সেটাকে ধারণ করেছিলেন এবং এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মার্কিনিরা বিশ্বাস করে, নয়াবিশ্ব ব্যবস্থার নেতৃত্ব থাকবে শুধু তাদেরই হাতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটালেও চার বছর পর আবারও সেই স্বপ্ন আমেরিকানদের মাঝে উঁকি দেবে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং জো বাইডেন হতে যাচ্ছেন সেই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার (নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) একজন পতাকাবাহী।

আজ (২০ জানুয়ারি, ২০২১), আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিচ্ছেন জো বাইডেন। তার সহকারী হিসেবে শপথ নেবেন কমলা হ্যারিস। কিন্তু বাইডেনের যে লক্ষ্য কিংবা স্লোগানের কথা বলেছি, সেটিকে সামনে রেখেই মূলত শান্তিকামী বিশ্ব কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত।

জো বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তার সঙ্গে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে থেকে প্রথম কথা বলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফোনালাপে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে চলমান মহামারি কোভিড-১৯ প্রসঙ্গ। সেই সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার অজুহাতে যুদ্ধ বাধিয়েছে আফগানিস্তান-ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। জুনিয়র বুশের হাত ধরে কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা। লাখ মানুষের জীবন, কোটিরও বেশি মানুষকে বাস্তুহারা করেছে সেই যুদ্ধ। বারাক ওবামা ক্ষমতায় এসেছিলেন ‘পরিবর্তনের ডাক’ দিয়ে। ওবামার কণ্ঠস্বরে কেঁপে উঠেছিল প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের হৃদয়। বিশ্বে অহেতুক যুদ্ধ চায় না তারা। এ কারণে ‘পরিবর্তনের ডাক দেয়া’ ওবামাকে বিপুল সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথ করে দিয়েছিল মার্কিনিরা।

jagonews24

কিন্তু আট বছর ক্ষমতায় থাকার পর বিদায়বেলায় ওবামার কপালে জুটেছিল ‘যুদ্ধবাজের’ তকমা। সে তুলনায় ট্রাম্প যুদ্ধবাজ ছিলেন অনেকটাই কম। চরম জাতীয়তাবাদী তিনি। ছিলেন প্রচণ্ড বর্ণবিদ্বেষী। ফলে আমেরিকাজুড়ে বর্ণবাদ, জাতীয়তাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। করোনার শুরুতে এই ভাইরাসটিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাটাও ট্রাম্পের জন্য কাল হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

আবার বিশ্বের বুকে মোড়লিপনার যে ধারা আমেরিকানরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি করেছিল, ট্রাম্প সেটা অনেকটাই নষ্ট করে ফেলেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে তার পররাষ্ট্রনীতি ছিল অনেকটা ‘একলা চলো’। এই একলা চলো নীতির কারণে নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহুপক্ষীয় চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। যেমন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ইত্যাদি। এসব কারণে বৈশ্বিক দরবারে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতি এবং আধিপত্য অনেকটাই খাটো হয়ে এসেছে।

বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও সে সব জায়গায় নিয়ে যাবেন। অনেকটা ওবামার সুরেই যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসতে যাচ্ছেন তিনি। বাইডেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, ট্রাম্পের বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তার শান্তির বার্তা ঘোষণা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিশ্বের বুকে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধি, সম্মান এবং মর্যাদাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাইডেন আবারও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিতে পারেন।

মূলত জো বাইডেন শপথ নেয়ার আগ মুহূর্তে তার নিয়োগ দেয়া মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পরিষদকে দেখেই সেই শঙ্কা সবচেয়ে বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এসব মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা পরিষদের অতীত কর্মকাণ্ড মোটেও সুখকর নয়। ওবামার আমলে এরাই ছিলেন সিরিয়া, লিবিয়াসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি ও যুদ্ধাবস্থা তৈরির মূল কারিগর। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর, বাইডেনের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা পরিষদ দেখেই নড়াচড়া শুরু হয়েছে বৈশ্বিক অস্ত্রের বাজারেও।

jagonews24

আল জাজিরা জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বাইডেন নিয়োগ দিয়েছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে। প্রায় দুই যুগ ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নীতিনির্ধারকদের একজন এই ব্লিংকেন। ওবামা আমলে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন ছিলেন তিনি। ব্লিংকেন ছিলেন ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের এবং বর্তমান ইয়েমেন যুদ্ধের অন্যতম হোতা। সুতরাং তাকে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ কতটা স্বস্তিতে থাকবে, সেটা বলাবাহুল্য।

লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ডকে মনোনীত করা হয়েছে জাতিসংঘে মার্কিন দূত হিসেবে। অনেকেই কৃষ্ণাঙ্গ গ্রিনফিল্ডকে ডেমোক্র্যাটদের কন্ডোলিৎসা রাইস বলেও অভিহিত করেন।

শুরুতে শোনা গিয়েছিল, বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সুসান রাইস। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটিতে নিয়োগ পেয়েছেন জেইক সুলিভ্যান। হিলারি ক্লিন্টনের সহযোগী হিসেবে ইরান পরমাণু চুক্তিসহ মার্কিন কূটনৈতিক অঙ্গনে সুলিভ্যান বেশ পরিচিত নাম। তিনি ছিলেন হিলারি ক্লিনটনের লিবিয়া আক্রমণের অন্যতম সঙ্গী। সুতরাং জেইক সুলিভ্যান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন নাকি অশান্তি সৃষ্টি করবেন, সেটা বলাই বাহুল্য।

ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা জন কেরিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে। কেরির বিরুদ্ধে সিরিয়ার যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে মদদের অভিযোগ রয়েছে।

jagonews24

যদিও বাইডেনের নিয়োগ করা ব্রেট ম্যাকগার্ককে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়ক হিসেবে ম্যাকগার্ককে নিয়োগ দিয়েছেন বাইডেন। সিরিয়াকে ভেঙে যে তিন-চারটি নতুন রাষ্ট্রের চিত্র অঙ্কন করা হচ্ছে, সেটা অনেকটাই ম্যাকগার্কের চিন্তাপ্রসূত।

ব্রেট ম্যাকগার্ককেই বলা হয় সিরিয়া যুদ্ধের অন্যতম কারিগর। তার তৈরি করা নকশা ধরেই সিরিয়া আজ শশ্মানে পরিণত হয়েছে। তার নীতির ওপর নির্ভর করে ওবামা পিকেকের (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি) সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। এই মৈত্রী তুরস্ককে প্রায় ভেঙে দিচ্ছিল সে সময়। ম্যাগকার্ক নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর আবারও ইরাক-সিরিয়া এবং তুরস্ক সীমান্তে অশান্তির দাবানল হু হু করে জ্বলে উঠবে, এটা নিশ্চিত।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সিরিয়া তো পুরোপুরিই শেষ হয়ে গেছে। জো বাইডেন কর্তৃক ব্রেট ম্যাকগার্কের নিয়োগ আবারও বিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে বিচলিত করে তুলেছে। ব্রেট ম্যাকগার্কের হাত ধরে যে বাইডেনের আমলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সমাধান মিলবে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত। বরং যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃত হবে বলেই শঙ্কা প্রকাশ করছে বোদ্ধারা। তাতে সিরিয়া ও তুরস্ককে ভেঙে নতুন চারটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা দ্রুতগামী হবে। একই সঙ্গে ত্রিপোলি ও বেনগাজীকে ঘিরে লিবিয়াকে দ্বিখণ্ডিত করার যে পরিকল্পনা ওবামা ও হিলারি ক্লিন্টন প্রশাসনের ছিল- সেটার গতি বেড়ে যাবে অনেকগুণ।

মধ্যপ্রাচ্যে বিরোধ জিইয়ে রাখতেই হিলারি ক্লিন্টনের মদদে তৈরি হয়েছিল মিলিশিয়া গোষ্ঠী আইএস। নানা উপায়ে সংঘর্ষ জিইয়ে রাখার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গতানুগতিক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতেই জো বাইডেন ফিরে যাবেন, এটা তার চারপাশের মানুষদের দেখলেই বোঝা যায়।

jagonews24

ট্রাম্পের বর্ণবিদ্বেষী নীতির সমালোচনা করে ক্ষমতায় আসা বাইডেনকে ঘিরে কিন্তু আতঙ্ক বাড়ছে আঙ্কারায়ও। ওবামার শাসনামলে সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই করে যেতে হয়েছে তুরস্ককে। বাইডেনের জয়ে সেই লড়াই ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে। তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ওবামা শাসনামলের শেষ দিকে তুরস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্কট ব্যাপক আকার ধারণ করে সিরিয়া যুদ্ধের বেপরোয়া গতির ফলে। ট্রাম্পের জামানায় এ সঙ্কট অনেকটাই স্থিমিত ছিল। সেটা সম্ভব হয়েছিল মূলত এরদোয়ান এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে। কিন্তু বাইডেনের ক্ষমতারোহনের পরপরই সেই সঙ্কট যেন ঘুম থেকে জেগে ওঠার সম্ভাবনা জানান দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার এ সঙ্কটের মূলে রয়েছে কুর্দিদের দিয়ে (পিকেকে) আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন, সিরিয়া যুদ্ধ, লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ, ভূমধ্য সাগর নিয়ে বিরোধ, হামাস, মুসলিম ব্রাদারহুড এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরমেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ।

পিকেকের নেতৃত্বে কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়ার মূল কারণই হচ্ছে ইরান এবং তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মার্কিন স্বার্থ নিশ্চিত করা। কিন্তু আঙ্কারা প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে মার্কিনদের প্রকল্পিত এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। গত চার বছরে এ সঙ্কট অনেকটাই স্থিমিত হয়েছিল ট্রাম্পের কারণে। বাইডেন ক্ষমতায় আসার অর্থ, সেই সঙ্কটের নবায়ন। আঙ্কারার শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

jagonews24

তবে ট্রাম্প গত চার বছরে সবচেয়ে বেশি বিরোধে জড়িয়েছে চীনের সঙ্গে। দেশটির সঙ্গে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করেছিলেন ট্রাম্প। চার বছর ধরে চীনের সঙ্গে বিরোধের জন্ম দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু চীনের সঙ্গেই বিচ্ছেদ ঘটায়নি, বিশ্বায়নের সঙ্গেও বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে বলতে গেলে।

যে কারণে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি দাঁড়িয়েছিল ‘একলা চলো’। বাইডেন যে মর্যাদা ও খ্যাতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন, তার মানে হচ্ছে, আমেরিকাকে চীনের সঙ্গে গঠনমূলক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। বৈশ্বিক নেতৃত্ব নেয়ার লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসার ইচ্ছা জো বাইডেনের নেই। তিনি চীনের সাথে সম্পর্কের সুর বদলাতে আগ্রহী। ইরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তিতে ফেরাও তার অন্যতম লক্ষ্য। ইয়েমেনের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ বন্ধে প্রয়োজনে সৌদি আরবের ওপর চাপ তৈরির জন্য ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী অংশের ভেতর থেকে বড় ধরনের চাপ রয়েছে বাইডেনের ওপর। কিউবার সাথে বৈরিতা দূর করার ব্যক্তিগত ইচ্ছাও রয়েছে জো বাইডেনের।

ট্রাম্প বিদায় নেয়ার আগ মুহূর্তে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলো বাইডেনকে বেশ ‘অসুবিধায়’ ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যে অসুবিধার কারণে বৈশ্বিক রাজনীতিতে আমেরিকার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেক সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা। তবুও নিউইয়র্ক টাইমসের সেই সম্পাদকীয় প্যানেলের নিবন্ধ ধরেই বলতে হয়, ‘ধীরে ধীরে মার্কিনিদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেবেন বাইডেন।’ এখানেই সবচেয়ে বড় শঙ্কা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের।

আইএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]