‘বেছে নাও – তোমাকে মেরে ফেলব নাকি ধর্ষণ করব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১

প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রেখে ২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদ। অথচ সেই ‘শান্তিপ্রিয়’ মানুষটার দেশেই এখন শান্তি প্রশ্নবিদ্ধ! ইথিওপিয়ার তিগ্রে অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমনে তিনি গণহত্যা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। এখন ওই অঞ্চলের যোদ্ধারা তো আছেই, সরকারি বাহিনীর হাতেও নারীরা গণহারে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন- এমন গা শিউরে ওঠা খবর শোনা যাচ্ছে।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইথিওপিয়ার তিগ্রে অঞ্চলে নির্যাতনের শিকার নারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কিছু খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছে। গত ডিসেম্বরে তিগ্রে থেকে পালিয়ে সুদানের হামদায়েত এলাকার একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া এক নির্যাতিতা নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

২৫ বছর বয়সী ওই নারীর কথায়, ‘‘সে আমাকে বলে, বেছে নাও- তোমাকে মেরে ফেলব নাকি ধর্ষণ করব।’’

jagonews24

শরণার্থী শিবিরে ওই নারীকে সেবা দেয়া চিকিৎসক তেওয়াদ্রোস তেফেরা লিমুহ জানান, ‘ওই সেনা বন্দুক ধরে জোর করে তাকে ধর্ষণ করে। নারী জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার কাছে কোনো কনডম আছে কি না। কিন্তু সে বলে, ‘আমার কনডমের কী দরকার?’’

সুদানিজ রেড ক্রিসেন্টের হয়ে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করা এ চিকিৎসক জানান, ওই নারীকে অনভিপ্রেত গর্ভধারণ ও যৌন রোগ থেকে রক্ষায় শিবিরে আসার পর ওষুধ দিয়েছেন তিনি।

ইথিওপিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার আরও পাঁচ কর্মী তিগ্রেতে নারীদের ওপর একইভাবে নির্যাতনের খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সহিংসতায় যৌন নিপীড়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে নারী নির্যাতনের বিপুল সংখ্যক অভিযোগের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের ধর্ষণে বাধ্য করার মতো বীভৎস অভিযোগও এসেছে। এমনকি সাধারণ নিত্যপণ্যের বিনিময়ে নারীদের শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

jagonews24

পোশাকধারী নিপীড়ক
সুদানের ক্যাম্পে সাক্ষাৎকার দেয়া ওই নারী জানিয়েছেন, তাকে নির্যাতনকারী ইথিওপিয়ান ফেডারেল আর্মির ইউনিফর্ম পরা ছিল।

পাঁচ ত্রাণকর্মী জানান, তারা যেসব নারীকে সেবা দিয়েছেন তাদের নির্যাতনকারীরা ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলের যোদ্ধা এবং ইরিত্রিয়ান সেনা ছিল বলে জানিয়েছেন। এ দু’টি বাহিনীই ইথিওপিয়ান সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে।

চিকিৎসক তেওয়াদ্রোস জানান, তিনি আরও দুইজন নির্যাতনের শিকার নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন বলেছেন, তার দরজায় আমহারা স্পেশাল ফোর্সের তিন সদস্য এসেছিল। তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে নির্যাতন করে।

উকরো শহরের এক ত্রাণকর্মী জানিয়েছেন, সেনারা স্ত্রীকে ধর্ষণের সময় কীভাবে হাঁটু গেড়ে স্বামীকে সেই দৃশ্য দেখতে বাধ্য করেছিল, তাকে সেই ভয়ঙ্কর বর্ণনা শুনিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

jagonews24

আদিগ্রাতের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, তিনি ছয় নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন, যাদের একদল সেনা নির্যাতনের পর কারো সাহায্য চাইতে নিষেধ করেছিল।

মুখ খুলছে না ইথিওপিয়ান সরকার
তিগ্রে অঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে এমন বীভৎস নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে মুখ খুলছে না ইথিওপিয়ান সরকার ও তাদের মিত্ররা। শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদের মুখপাত্র, তিগ্রের গভর্নর, মেকেলের মেয়র, ইথিওপিয়ান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র, এমনকি ইরিত্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

আমহারার আঞ্চলিক মুখপাত্র গিজাচেউ মুলুনে শুধু ফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।’

এছাড়া, বহু প্রত্যক্ষদর্শী থাকা সত্ত্বেও তিগ্রে অঞ্চলে ইরিত্রিয়ান সেনা উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়া উভয় দেশের সরকারই।

কেএএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]