চীনে খনিতে আটকে পড়া আরও ৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

চীনের একটি স্বর্ণের খনিতে আটকা পড়া আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে তারা ওই খনিতে আটকা পড়েছিলেন। সোমবার স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১০ জানুয়ারি শানডং প্রদেশের হুশান খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পরই সেখানে আটকা পড়ে ২২ জন শ্রমিকের একটি দল। তারা মাটির ৬০০ মিটার নিচে আটকা পড়েছিলেন। ওই খনিটি শানডং প্রদেশে অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর থেকেই ভেতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে উদ্ধারকারী দল একটি সরু টানেল দিয়ে শ্রমিকদের কাছে ওষুধ এবং খাবার সরবরাহ করেছিল।

রোববার ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সোমবার ইয়ানতাই শহরের মেয়র চেন ফেই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোববার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান বন্ধ করেনি। অভিযান চালিয়ে নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খনি থেকে নয়জনের মরদেহ বের করে আনা হয়েছে।

চেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আরও একজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কী কারণে ওই খনিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঝাওজিন নামের ওই খনিটি শানডং উকাইলং ইনভেস্টমেন্টের। এটি চীনের চতুর্থ বৃহত্তম স্বর্ণের খনি।

চীনের বিভিন্ন খনিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি ও সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই এসব খনির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ফলে প্রতি বছরই বহু শ্রমিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চোংকিং শহরে একটি খনিতে আটকা পড়ে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। ডায়াসুইডং কয়লা খনিটিতে মোট ২৪ জন আটকা পড়েছিল। কয়েকজনকে সেখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ শ্রমিক কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাসের কারণে প্রাণ হারান। গত বছরের সেপ্টেম্বরেও আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় সংজাও কয়লা খনিতে কার্বন মনোঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়।

রোববার সকালে প্রথমে একজনকে উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল। তাকে উদ্ধারের প্রায় এক ঘণ্টা পরে ওই খনি থেকে উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় বাকি শ্রমিকরা ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই বাকিদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে উদ্ধারকারী দল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে একজনকেও আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

টিটিএন/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]