নাবালিকার যৌন হয়রানি বিষয়ে বোম্বে হাইকোর্টের বিতর্কিত আদেশ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

কাপড় না খুলে নাবালিকার বুকে হাত দিলে সেটি যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচিত হবে না, বোম্বে হাইকোর্টের এমন বিতর্কিত রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গত সপ্তাহে হাইকোর্টের ওই আদেশ নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে বুধবার সেটি স্থগিত করেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। খবর এনডিটিভির।

বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপালকে পিটিশন দায়েরেরও নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। বোম্বে হাইকোর্টের ওই আদেশ ‘বিপজ্জনক উদাহরণ’ সৃষ্টি করবে বলে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন অ্যাটর্নি।

বুধবারের আদেশে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ওই রায় আমাদের নজরে এনেছেন... যাতে হাইকোর্ট পকসো আইনের ৮ম ধারায় অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছেন এই বলে যে, সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শ না হওয়ার অর্থ অভিযুক্তের যৌন হয়রানি করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এই আদেশ নজিরবিহীন এবং সম্ভবত একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে বলে উল্লেখ করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

jagonews24

একইদিন ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে যৌন হয়রানির দায়ে এক আসামির সাজার মেয়াদ কমাতে হাইকোর্টের একটি রায়ও স্থগিত করেছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট।

গত ১৯ জানুয়ারি বিতর্কিত ওই আদেশ দিয়েছিলেন বোম্বে হাইকোর্ট। এতে বলা হয়েছিল, পোশাকের ওপর দিয়ে কোনো নাবালিকার বুকে স্পর্শ করলে যেহেতু ত্বকের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংযোগ হয় না, একারণে সেটি শিশুদের যৌন সুরক্ষা আইনে (পকসো) অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না।

স্থানীয় একটি নিম্ন আদালত ৩৯ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পকসো আইনে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি অনুসারে, ২০১৬ সালে নাগপুরের ওই ব্যক্তি শিশুটিকে কিছু একটা খাওয়ানোর কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি নাবালিকার স্পর্শকাতর জায়গা চেপে ধরেন এবং তার পোশাক খোলার চেষ্টা করেন।

jagonews24

কিন্তু বোম্বে হাইকোর্টের বিচারক পুষ্প গানেদিবালা তার রায়ে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটির কাপড় না খুলেই শরীরে হাত দিয়েছেন। একারণে এটি যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে না। একে বড়জোর একজন ‘নারীর সম্মানে আঘাত’ বলা যায়, যার কারণে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় সাজা হতে পারে।

ভারতে ৩৫৪ ধারা অনুসারে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেখানে শিশু সুরক্ষা আইনে সাজা হতে পারে তিন বছর পর্যন্ত।

অভিযুক্ত ব্যক্তি নিম্ন আদালতে দুই ধারাতেই দণ্ডিত হয়েছিলেন। কিন্তু, গত সপ্তাহে তার বড় সাজা কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন বোম্বে হাইকোর্ট।

এরপর থেকেই দেশটিতে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এটি নারীদের জন্য চরম অবমাননাকর দাবি করে হাইকোর্টের আদেশের সমালোচনা করেছেন অনেকে।

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]