রক্তক্ষয়ী দিনের পর মিয়ানমারে আবারও বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১
‘অ্যাঞ্জেল’ নামে পরিচিত কিয়াল সিনের ছবি হাতে বিক্ষোভকারীরা

মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বুধবার ৩৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই দিনের কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার আবারও বিক্ষোভে জড়ো হন অভ্যুত্থানবিরোধী জনতা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এদিনও বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচিতে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

মান্দালয়তে বুধবার ‘অ্যাঞ্জেল’ নামে পরিচিত ১৯ বছর বয়সী তরুণী কিয়াল সিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি ‘এভ্রিথিং উইল বি ওকে’ লেখা একটি টিশার্ট পরিহিত ছিলেন। অ্যাঞ্জেলকে শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অগণিত মানুষ জড়ো হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘বীর’ হিসেবে সম্বোধন করে অনেকেই শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াঙ্গুন ও মনিওয়াতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। ইয়াঙ্গুনের পশ্চিমে পাথেইন শহরেও পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গুলি চালানোর কিছুক্ষণ পরেই ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীরা আবারও সমবেত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

jagonews24

বুধবারের বিক্ষোভে অংশ নেয়া অ্যাঞ্জেলের এই ছবিটি ভাইরাল হয়েছে

মান্দালয় ও বাগানসহ বেশ কিছু শহরেও বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে র‍্যালি করেছেন। বাগানে শত শত বিক্ষোভকারী অং সান সু চির ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা করেন। ব্যানারে লেখা ছিল- ‘আমাদের নেতৃকে মুক্তি দাও’।

বৃহস্পতিবার সকালে পাচঁটি ফাইটার জেট বিমান মান্দালয়ের ওপর থেকে উড়ে গেছে। সামরিক বাহিনী সতর্কতা দেখাতে এমনটা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মিয়ানমারের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর তাজা গুলি ছোড়ে। এতে অন্তত ৩৮ জন মারা যান। অভ্যুত্থানের পর গতকালই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। বর্তমানে সামরিক সরকারের কাছে আটক রয়েছেন গত নভেম্বরে বিজয়ী দল এনএলডি’র শীর্ষ নেতা অং সান সু চিসহ নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট এবং অধিকাংশ মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা।

অভ্যুত্থানের পরপরই মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের পেশাজীবীরা কাজে ইস্তফা দিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন। শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ অত্যন্ত সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে সামরিক সরকার। এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

এমকে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]