অন্যদের ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’তে সহায়তা করছেন এইচআইভি আক্রান্ত নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২১

তিনি নিজে এইচআইভি আক্রান্ত। কিন্তু তারপরেও অন্যদের নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। থেমবি নাম্বুল এসওয়াতিনির বাসিন্দা। দেশটিতে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত। সেখানে হাজার হাজার মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু যেন সহজ, স্বাভাবিক হয় সেজন্য বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন থেমবি। আর নিজের এসব জ্ঞানের মাধ্যমে তিনি অন্যান্য এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা করে যাচ্ছেন।

থেমবি এখন পর্যন্ত নানাভাবে মানুষকে মারা যেতে দেখেছেন। কিছু মৃত্যু খুব স্বাভাবিক আবার অনেক মৃত্যু ভীষণ কষ্টের। থেমবি চান সব মানুষই যেন সহজ, স্বাভাবিকভাবে মারা যান।

এসওয়াতিনি আগে সোয়াজিল্যান্ড নামেই পরিচিত ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য দেশটিকে বৈশ্বিক এইচআইভির কেন্দ্রস্থল এবং এইডস মহামারি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এক মহামারি বিশেষজ্ঞ বলছেন, করোনা মহামারির কারণে সেখানকার পরিস্থিতি এখন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

দেশটিতে এইআইচি ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২৬ ভাগ মানুষ। তবে কয়েক দশক আগে পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। থেমবি বলেন, আমরা আমাদের চারপাশে শুধু মৃত্যু দেখেছি।

তিনি বলেন, ৯০ দশকের তার পরিষ্কার মনে আছে তিনি যখন এইচআইভি ভাইরাসের কথা প্রথম শুনলেন তখন তার নতুন বিয়ে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছিলেন।

সে সময় দেশজুড়ে রক্তদান কর্মসূচিকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছিল। থেমবির অনেক বন্ধু-বান্ধবকেও তিনি রক্ত দিতে দেখেছেন। কিন্তু এরপর তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে এবং কেউ আর ফিরে আসেনি।

সে সময় গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল যে, তাদের রক্তে এইচআইভির উপস্থিতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তবে সবার মধ্যে একটি চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল যে, এই রোগে যে আক্রান্ত হবে তার আর বাঁচার আশা নেই। সে নিশ্চিত মারা যাবে।

সবদিকে ভয় ছড়িয়ে পড়ায় অনেককেই আর স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে দেখা যায়নি। এই ঘটনার কয়েক বছর পর থেমবি একটি হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন থেকেই তিনি এইচআইভি সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারেন।

যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছিলেন তারা সবাই কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা নিজেদেরকে সবার কাছ থেকে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ পরেই হয়তো স্থানীয় পত্রিকায় অনেকের মৃত্যুর খবর জানা যেত। তবে তাদের রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ করা হতো না।

২০০২ সালে থেমবির এইচআইভি ধরা পড়ে। তিন সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে তিনি কাতর হয়ে পড়েন। একদিন তিনি তার পরিবারে সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে নিজের এইচআইভি আক্রান্তের বিষয়টি জানালেন। তিনি সবাইকে বোঝালেন যে, একসঙ্গে খাবার খেলে বা এক বিছানায় ঘুমালে এই ভাইরাস ছড়ায় না।

এর পাশাপাশি তিনি লোকজনকে এ বিষয়ে জানানো শুরু করলেন। মানুষকে সহযোগিতা করতে শুরু করলেন। তার কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু মানে হচ্ছে শান্তি। আর তার সহযোগিতার কারণে অনেকেই মৃত্যুর সময় তাকে পাশে থাকার আকুল আহ্বান জানাতেন। আর তিনিও তাদের আকুতি ফেলতে পারেন না। চেষ্টা করে যাচ্ছেন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর এসব মানুষের পাশে থাকার।

কিন্তু এইচআইভি আক্রান্ত অনেকের জন্য মৃত্যুর সময়ও সামান্য একটু শান্তি পাওয়া হয়ে ওঠে না। তারা অনেক কষ্ট নিয়েই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে এটা বলি যে, নিজের জীবনে শান্তি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা নিজেকেই করতে হবে। আপনি নিজের প্রতি যেমন আচরণ করবেন অন্যরাও আপনার প্রতি তাই করবে। আপনি যদি নিজের রোগ নিয়ে লজ্জিত না হন তবে অন্য কেউ আপনাকে ছোট করতে পারবে না।’

টিটিএন/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]