জনগণকে কঠিন সংকটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন কিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১

উত্তর কোরিয়ার জনগণকে কঠিন সংকটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন। বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করছিল যে উত্তর কোরিয়া গুরুতর খাদ্য ঘাটতি ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। এবার দেশটির নেতার কাছ থেকেই সংকটের কথা জানানো হলো। খবর বিবিসির।

বৃহস্পতিবার এক দলীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার সময় কিম এই পরিস্থিতিকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন যাকে ১৯৯০ এর দশকের দুর্ভিক্ষের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যায়।

জনগণকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে আরেকটি ‘কষ্টসাধ্য পদযাত্রা’ পরিচালনার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান কিম।

‘কষ্টসাদ্য পদযাত্রা’ উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত একটি বিশেষ পরিভাষা। ১৯৯০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে উত্তর কোরিয়াকে দেয়া জরুরি সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তীব্র সংকটের মুখে পড়ে দেশটি যা পরবর্তীকালে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি করে। এই দুর্ভিক্ষে ৩০ লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হয়। তখন দেশটি যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে তা বুঝাতেই ‘কষ্টসাদ্য পদযাত্রা’ পরিভাষাটি ব্যবহার করা হত।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সীমান্ত বন্ধ রেখেছে উত্তর কোরিয়া। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যও স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক প্রকল্পের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কলিন জউইরকো বিবিসিকে বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলাটা কিম জং-উনের জন্য ব্যতিক্রম নয়, কিন্তু এবার তার ভাষা বেশ শক্ত এবং এটা ভিন্নরকম।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলো কয়েক মাস ধরেই উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে। চীনের সীমান্তের কাছাকাছি থাকা উত্তর কোরিয়ার শহরগুলো থেকে এই কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এসব এলাকায় অনেকের প্রধান আয় কালোবাজারি।

উত্তর কোরিয়ার গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ভুট্টা। কিন্তু ভুট্টার দাম ব্যাপক মাত্রায় ওঠানামা করছে। এমনকি এক কেজি ভুট্টার দাম এক মাসের পারিশ্রমিকের সমান হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক লিনা ইয়ুন উত্তর কোরিয়ার সূত্রের নাম উল্লেখ না করে বলেন, চীন থেকে প্রায় দুই মাস ধরে কোনো খাবার দেশটিতে ঢুকছেনা বললেই চলে।

তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি ভিক্ষুক, সীমান্ত এলাকার কিছু লোক না খেয়ে মারা গেছেন এবং কোনো সাবান, টুথপেস্ট বা ব্যাটারি নেই।’

উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি টমাস ওজেয়া কুইনটানা গত মাসে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটি গুরুতর খাদ্য সংকটে ভুগছে যা ইতোমধ্যেই পুষ্টিহীনতা ও অনাহারের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এমকে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]