বাংলাদেশের সহিংসতার ঘটনা বিজেপির গানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১

পশ্চিমবঙ্গের বিধান নির্বাচনের প্রচারণার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত বুধবার (৭ এপ্রিল) একটি গানের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশে এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা, বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল থেকে নেয়া ছবি ও ইসলামপন্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে নানা পরিসরে আলোচনা চলছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কলকাতার কিছু খ্যাতিমান গায়ক-অভিনেতা বিজেপির মৌলবাদী চিন্তাভাবনার বিরোধিতা করে একটি গানের ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। বিজেপির সাম্প্রতিক ভিডিওটি তারই পাল্টা জবাব হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ১৯৪৭ এর দেশভাগ থেকে শুরু করে ‘ইসলামী জঙ্গিদের’ কার্যকলাপ মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন। এজন্যই বাংলাদেশের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ ভিডিওতে আনা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশের নির্বাচনে তাদের ‘ব্যবহার’ করা হয়েছে।

গানের ভিডিওতে শুরুতেই আছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। কলকাতার একটি কেন্দ্র থেকে এবারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তিনি। এছাড়া রুদ্রনীল ঘোষসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিনেতা-প্রার্থীকেও দেখা গেছে ভিডিওটিতে।

এতে দেখা যায়, বাংলাদেশের এক সংখ্যালঘু কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামপন্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা সংক্রান্ত খবরের কাগজের কাটিং দেখা যাচ্ছে।

এতে আনা হয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে আরব গেরিলাদের প্রসঙ্গ, যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর একটি পতাকার ছবি।

ভিডিওটিতে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলের লোগোসহ ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, যেসব ছবি ব্যবহার বা ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘ওই ভিডিওতে কিন্তু বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু নেই। ভারত বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুবই ভালো। আমাদের অবস্থান একটা নির্দিষ্ট মানসিকতার বিরুদ্ধে। আমরা চাই না জামাতি চিন্তাধারা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে লালিত-পালিত হোক। সীমান্তের ওদিক থেকে কিছু মানুষ যে ধরনের মগজ ধোলাই চালাচ্ছেন আমাদের এদিকে, আমরা সেই মানসিকতার বিরোধী।’

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বসেই তো হয়েছিল; খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ তো সেই চক্রান্তেরই অংশ ছিল। সেসব তো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তো এইসব মৌলবাদী-উগ্রবাদীরা সক্রিয়’—বলেন শমীক ভট্টাচার্য।

যদিও বিজেপিবিরোধী ভিডিওতে অংশ নেয়া অভিনেতা কৌশিক সেন বলছেন, ‘মনে হচ্ছে যেন আমাদের গানটার পাল্টা একটা কিছু করতে হবে বলে তাড়াহুড়ো করে যা হোক একটা কিছু করে দিয়েছেন। এবারে যদি বিষয়বস্তুতে আসা যায়, তাহলে সেখানেও বলতে গেলে কিছুই নেই। শুধুমাত্র বাংলাদেশের কিছু ঘটনাবলী তুলে এনে মুসলিম-বিদ্বেষটাকে উসকে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। আমার তো মনে হয় এই বিষয়টা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা উচিত। কারণ ভোটের মধ্যে এ ধরনের প্রচার তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে যথেষ্ট হানিকর।’

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিওটি চোখে পড়েছে বাংলাদেশের অনেক মানুষের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজীব নন্দী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গানটি পলিটিক্যাল কমিউনিকেশনের দৃষ্টি থেকে বেশ আপত্তিকর। পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রচারিত এই গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে বাংলাদেশের কিছু ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে খুব সচেতনভাবে। ওই সব ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। একটা উদ্দেশ্য নিয়ে খণ্ডিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে গানটিতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সংখ্যাগুরুর সাম্প্রদায়িক হামলাকে আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু সেই হামলার খবর আরেকটি দেশের ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক দলের রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহৃত হলে সেখানে আমার আপত্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়।’

এমকে/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]