‘বিনা অনুমতিতে’ জলসীমায় মার্কিন নৌবহর প্রবেশে ভারতের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৭ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১

বিনা অনুমতিতে আরব সাগরের লক্ষদ্বীপে ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর ঢুকে পড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

শুক্রবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ধরনের কার্যক্রম ভারতের সমুদ্র সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এ জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানায় দেশটি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জাতিসঙ্ঘের সমুদ্র বিষয়ক আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া তার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে অন্য কোনো রাষ্ট্র সামরিক মহড়া বা তৎপরতা চালাতে পারবে না, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে অস্ত্র অথবা বিস্ফোরক জাতীয় কিছু জড়িত থাকে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘ইউএসএস জন পল জোন্স পারস্য উপসাগর থেকে মালাক্কা প্রণালীর দিকে যাওয়ার জন্য ক্রমাগতভাবে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি।’

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, উপকূল থেকে সমুদ্রের ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকা যেকোনো দেশের জলসীমা বলে বিবেচিত হয়। তবে জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী, উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকায় অর্থনৈতিক কাজকর্ম চালানোর অধিকার রয়েছে যে দেশের, যাকে সেই দেশের ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ বলা হয়।

জাতিসংঘের ওই আইনে যে সকল দেশ স্বাক্ষর করেছে, ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে স্বাক্ষর করেনি। তাই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সুরক্ষা আইন অনুযায়ী লক্ষদ্বীপের কাছে টহল দিয়ে তাদের নৌবাহিনী কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার মার্কিন সপ্তম নৌবহরের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৭ এপ্রিল, ২০২১ ইউএসএস জন পল জোন্স সামুদ্রিক অধিকার এবং স্বাধীনতা প্রয়োগ করে লক্ষদ্বীপের পশ্চিমে ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় ১৩০ নটিক্যাল মাইল ভেতরে প্রবেশ করে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এর জন্য আগে থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সামরিক মহড়া বা তৎপরতা চালাতে গেলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়, এ দাবি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা রুটিন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশনস (ফোনোপস) পরিচালনা করে থাকি, যা আমরা আগেও করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। ফোনোপস কোনো একটি দেশের প্রতি নয় বা এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থানও নয়।’

এমকে/জেডএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]