কারাতে শিখে পাল্টা আঘাত দিচ্ছে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু মেয়েরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২১

‘কারাতে দিয়ে হয়তো আমরা বোমা ঠেকাতে পারব না, তবে আত্মরক্ষার মাধ্যমে আমি আত্মবিশ্বাসী হতে শিখেছি। সবাই জানে আমি [মার্শাল আর্ট] ক্লাবে যাচ্ছি। এখন বাইরে বেরোলে কেউ [খারাপ] কিছু বলার সাহস পায় না।’

কথাগুলো বলছিলেন নার্গিস বাটুল নামে ২০ বছরের এক তরুণী। শুধু এই মেয়েটিই নয়, এখন কারাতের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষার উপায় শিখছে পাকিস্তানের শত শত সংখ্যালঘু নারী। এদের মধ্যে বেশিরভাগই হাজারা সম্প্রদায়ের সদস্য।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোয়েটা শহরে দশকের পর দশক ধরে সম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হচ্ছে সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়। আফগান বংশোদ্ভূত এসব শিয়া মুসলিম বসবাস করেন মূলত দুটি পৃথক ছিটমহলে।

Pakistan-3.jpg

একাধিক চেকপয়েন্ট এবং সশস্ত্র রক্ষী দিয়ে পরিবেষ্টিত হলেও এসব জায়গায় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় হাজারা নারীদের। গণপরিবহন ও বাজারের মতো উন্মুক্ত জায়গাগুলোতেও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে অহরহ।

এধরনের হয়রানি থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে ২৫টিরও বেশি মার্শাল আর্ট ক্লাবে আত্মরক্ষার উপায় শিখছেন অন্তত চার হাজার মানুষ। এর মধ্যে কোয়েটার বড় দুটি ক্লাবেই সদস্য রয়েছে প্রায় ৫০০ জন, যার মধ্যে বেশিরভাগই হাজারা নারী।

শুধু আত্মরক্ষাই নয়, এদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন কারাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। সংখ্যলঘু এ সম্প্রদায় থেকে সম্প্রতি নার্গিস হাজারা নামে এক নারী জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং কুলসুম হাজারা পদক জিতেছেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

Pakistan-3.jpg

রক্ষণশীল দেশ পাকিস্তানে এখনও খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ বাঁকা চোখে দেখা হয়। অনেক সময় পরিবার থেকেই নিষেধ করা হয়। তবে মার্শাল আর্ট শিক্ষক ফিদা হুসেইন কাজমি মনে করেন, এর ব্যতিক্রমও হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাধারণভাবে আমাদের সমাজে নারীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন না… তবে নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষার খাতিরে তাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

কাজমি জানান, তিনি গত কয়েক বছরে শত শত নারীকে কারাতে শিখিয়েছেন।

৪১ বছর বয়সী এ শিক্ষক মাত্র ৫০০ রুপির বিনিময়ে সপ্তাহে ছয়দিন দুই ঘণ্টা করে কারাতে শেখান। তবে কারও পরিবারের কোনও সদস্য উগ্রবাদী সহিংসতায় নিহত হলে তাদের জন্য এই শিক্ষা ফ্রি।

২০১৩ সালে এক বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈয়্যেদা কুবরার ভাই। তবে ভেঙে পড়েনি ১৮ বছরের মেয়েটি। তার কথায়, হাজারা সম্প্রদায় অনেক সমস্যায় রয়েছে… তবে কারাতে শিখে আমরা নিরাপদবোধ করতে শুরু করেছি।

সূত্র: এএফপি

কেএএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]