রক্তজমাট: যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের টিকা ব্যবহার স্থগিতের সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

 

মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর কিছু লোকের শরীরে রক্তজমাট বাঁধার খবরের প্রেক্ষিতে সেটির ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এই পদক্ষেপকে ‘বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, এ পর্যন্ত জনসনের করোনা টিকা নিয়েছেন অন্তত ৬৮ লাখ মানুষ। এর মধ্যে মাত্র ছয়জনের শরীরে রক্তজমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার একাধিক টুইটে এফডিএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলেছে, জনসনের করোনা টিকা নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ছয়জনের শরীরে গুরুতরভাবে রক্তজমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা বাড়তি সতর্কতাস্বরূপ এই টিকার ব্যবহার স্থগিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

অবশ্য এই মুহূর্তে টিকা নেয়ার পর এধরনের নেতিবাচক ঘটনা খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছে সংস্থা দুটি। তারা বলেছে, স্বাস্থ্যসেবাদানকারী সম্প্রদায়গুলো যেন এধরনের নেতিবাচক ঘটনার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

jagonews24

এফডিএ এবং সিডিসির যৌথ বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, জনসনের টিকাগ্রহীতাদের শরীরে রক্তজমাট বাঁধার বিষয়টি সেরেব্রাল ভেনস সাইনাস থ্রম্বোসিস (সিভিএসটি)। এধরনের সমস্যায় প্রচলিত পদ্ধতির বদলে একটি ভিন্ন চিকিৎসা দরকার বলে জানিয়েছে তারা।

জানা গেছে, জনসনের টিকা নেয়ার পর যাদের শরীরে রক্তজমাট বেঁধেছে তারা সবাই নারী এবং তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৮ বছরের মধ্যে। এসব নারী টিকা নেয়ার ছয় থেকে ১৩ দিনের মধ্যে রক্তজমাট বাঁধার শিকার হয়েছেন।

কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে এক নারী মারা গেছেন এবং আরেক নারীর অবস্থা সংকটাপন্ন।

এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা নেয়া কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে রক্তজমাট বাঁধার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর জেরে সেটির ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল বেশ কয়েকটি দেশ।

অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে ইতোমধ্যে প্রায় সবখানেই ফের শুরু হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ব্যবহার। তবে সতর্কতাস্বরূপ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ বয়সসীমা মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেমন- যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ৩০ বছরের কম বয়সীদের অন্য টিকা নিতে বলেছে।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]