দেনায় জর্জরিত এয়ার ইন্ডিয়ার ভার বইবে না ভারত, কিনতে দরপত্র আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:২৩ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২১

চরম অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসান গুনতে গুনতে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। বহুদিন ধরেই এয়ারলাইনটি বিক্রির চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। তবে ঋণের এই ভার আর টানতে চায় না তারা। একারণে আগামী পাঁচ মাসের মধ্যেই সংস্থাটিকে বেসরকারি খাতে তুলে দিতে চান ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা।

সেই প্রক্রিয়াও অনেকটা গুছিয়েও এনেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে আগ্রহীদের দাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই।

এয়ার ইন্ডিয়া কেনার ক্ষেত্রে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে গত ডিসেম্বর থেকে জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে টাটা গ্রুপের নাম।

সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, প্রাথমিক প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে যোগ্য দরদাতাকে এয়ার ইন্ডিয়ার ভার্চ্যুয়াল ডেটা রুমের (ভিডিআর) অ্যাকসেস দেয়া হবে। সেখান থেকে নানা প্রশ্নের জবাব পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

সূত্র জানিয়েছে, এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া বর্তমানে আর্থিক দরপত্রের পর্যায়ে রয়েছে। ভারত সরকার এয়ার ইন্ডিয়ার শতভাগ শেয়ারই বিক্রি করে দিতে চায়।

২০০৭ সালে দেশীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই লোকসানে চলছে এয়ার ইন্ডিয়া। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এর বিক্রি প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব দেখা দেয়। ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচবার প্রাথমিক দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে ভারত সরকার।

১৯৩২ সালে সাধারণ মেইল ক্যারিয়ার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। এর নতুন মালিক ভারতীয় বিমানবন্দরগুলোতে ৪ হাজার ৪০০টি অভ্যন্তরীণ এবং ১ হাজার ৮০০টি আন্তর্জাতিক ল্যান্ডিং ও পার্কিং স্লটের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে। থাকছে বিদেশি বিমানবন্দরগুলোর ৯০০টি স্লটও।

jagonews24

এর পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়ার কম খরুচে অঙ্গসংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের শতভাগ এবং এআইএসএটিএস-এর ৫০ ভাগ মালিকানাও পাবে ক্রেতা।

এত কিছুর পরেও ২০১৭ সাল থেকে শুরু করা বিক্রি প্রক্রিয়া খুব একটা আগায়নি। এর পেছনে সরকারের কঠোর নিয়ম-নীতিকে দায়ী করেছেন অনেকেই। তবে এবার কিছুটা নমনীয় হয়েই এগোচ্ছে ভারতীয় প্রশাসন।

জি নিউজের খবর অনুসারে, আগে এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে হলে এর ৬০ হাজার কোটি রুপির পুরো দেনাই ঘাড়ে নিতে হতো ক্রেতাকে। তবে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস বলছে, ৬০ হাজার কোটির মধ্যে ২৩ হাজার ২৮৬ কোটি রুপি ঋণের বোঝা নিতে হতো ক্রেতাকে, বাকিটা সরকারই মেটাত।

তবে এবার ক্রেতারা কতটুকু ঋণ টানতে চান, তা জানানোর সুযোগ দিচ্ছে ভারত সরকার।

সম্প্রতি ভারতের বেসরকারি বিমান চলাচল মন্ত্রী হরদ্বীপ পুরি বলেছেন, আমাদের হাতে কোনও উপায় নেই- হয় এয়ারলাইনটি বিক্রি করতে হবে, নাহয় বন্ধ। এয়ার ইন্ডিয়া এখন অর্থোপার্জন করলেও আমাদের দৈনিক ২০ কোটি রুপি লোকসান হচ্ছে। অব্যবস্থাপনার কারণে ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এখন আরেকটি সময়সীমার দিকে নজর দিয়েছি। আর্থিক দরপত্র আসার জন্য ৬৪ দিন রয়েছে। এরপরেই সিদ্ধান্ত নেয়া এবং হস্তান্তরের প্রশ্ন আসবে।

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]