মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় কী ভাবছে আফগানরা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৯ এএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে যুদ্ধ করে অবশেষে ক্লান্ত যুক্তরাষ্ট্র! গত বুধবার মার্কিনিদের ইতিহাসে দীর্ঘতম এ লড়াইয়ের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে বিদায় নেবে সব মার্কিন সেনা। কিন্তু এরপর কী হবে? মার্কিনিদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আফগানিস্তানে কি আসলেই ‘শান্তিপ্রতিষ্ঠা’ হয়েছে? এ বিষয়ে কী ভাবছে দেশটির সাধারণ মানুষ?

আফগান রাজধানী কাবুলে একটি বিদেশি এনজিওতে কাজ করেন মোহাম্মদ ইদ্রিস। ৩১ বছর বয়সী এ যুবক সিএনএন’কে বলেন, [সেনা] প্রত্যাহার আমাদের সুবিধার জন্য নয়। এতে সহিংসতা হবে, নিরাপত্তাহীনতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে এবং আরও একবার আফগান লোকেরা আফগানিস্তান ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় খুঁজতে শুরু করবে।

অনেক আফগান আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে তালেবানরা ক্ষমতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সশস্ত্র এ গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে দেশটির বিশাল একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলা সত্ত্বেও চলতি বছর আফগানিস্তানে সহিংসতা আরও বেড়েছে।

গত বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরকারবিরোধী হামলা-সহিংসতাকে দায়ী করা হয়েছে।

Afghan-2.jpg

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন।

তবে আফগান সংসদের স্পিকার মীর রহমান রহমানি আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন, এর ফলে দেশটিতে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। তার কথায়, আফগানরা মার্কিন সেনা প্রত্যাহার চায়, তবে সেটি এখনই নয়।

রহমানি আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজকে বলেন, আফগান জনগণ চায় এসব বাহিনী প্রত্যাহার হোক, তবে এই মুহূর্তে সেটি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এর ফলে গৃহযুদ্ধ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি আফগানিস্তানকে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস কেন্দ্রে পরিণত করবে।

রহমানির মতো অনেকটা একই কথা বলেছেন ফাতিমা গাইলানি। তিনি আফগান সরকারের পক্ষ থেকে তালেবানের সঙ্গে সমঝোতাকারী চার নারীর একজন।

ফাতিমা বলেন, আফগানিস্তানে শান্তিপ্রতিষ্ঠা ছাড়াই সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া দায়িত্বহীন কাজ। এর ফলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধের ‘ভয়াবহ আশঙ্কা’ করছেন তিনিও।

Afghan-2.jpg

বলা হচ্ছে, আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান হলে তা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বহু বছরের কষ্টসাধ্য অর্জন নস্যাৎ করে দেবে। নব্বইয়ের দশকে তালেবান শাসনামলে আফগান মেয়েরা শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত ছিল, তারা বাইরে কাজে যেতে পারত না, এমনকি পুরুষ সঙ্গী ছাড়া ঘর থেকেই বের হতে পারত না নারীরা।

উত্তর আফগানিস্তানের বলখ প্রদেশে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কাজ করছেন ফৌজিয়া আহমাদি। ৪২ বছর বয়সী এ নারী জানান, নব্বইয়ের দশকে তালেবান সরকারের আমলে তিনি এমন একটি চাকরি করার কথা কল্পনাও করতে পারতেন না।

ফৌজিয়া বলেন, তালেবান শাসনের বাজে স্মৃতি রয়েছে আমাদের। তখন নারীদের স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে দেয়া হতো না, এমনকি আমরা একা বাজারেও যেতে পারতাম না।

তার মতে, পশ্চিমা-সমর্থিত আফগান সরকারের অধীনে দেশটিতে নারী অধিকার কিছুটা সুরক্ষিত হয়েছে, তবে সেখান থেকে পিছলে যাওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

Afghan-2.jpg

আফগান এ নারী বলেন, তালেবানের চিন্তাভাবনা ১৯৯৬ সালে যেমন ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে। আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য শঙ্কিত।

অবশ্য কাবুলের এক ছাত্র বেশ আশাবাদী, আফগান সরকারই তালেবানদের প্রতিরোধ করে নাগরিক সমাজের কষ্টসাধ্য অর্জনগুলো রক্ষা করতে পারবে।

২০ বছর বয়সী সৈয়দ শাহীর বলেন, কিছু লোক ভাবছে, মার্কিনিরা ফিরে গেলে আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পড়বে। কিন্তু তেমনটি হবে না।

প্রায় সারাজীবন মার্কিন যুদ্ধের ছায়ায় বেড়ে ওঠা এ আফগান তরুণ বলেন, আমরা আমাদের দেশ পুনর্গঠন করতে এবং শান্তিপ্রতিষ্ঠা করতে পারব। আমাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী আগে চেয়ে শক্তিশালী।

সূত্র: সিএনএন

কেএএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]