গর্ভাবস্থাতেই আবার গর্ভধারণ ব্রিটিশ নারীর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

যুক্তরাজ্যের এক নারী গর্ভধারণের তিন সপ্তাহ পরে আবার গর্ভধারণ করেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও এ ঘটনাটি আসলেই ঘটেছে যাকে চিকিৎসকরা বিরল ‘সুপার টুইনস’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

দুটি শিশুই একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছে কিন্তু এরা মায়ের গর্ভে এসেছে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে। এই বিরল জমজ শিশুর জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে বসবাসকারী রেবেকা রবার্টস। রেবেকা জানান, তিনি ও তার সঙ্গী রাইস ওয়েভার অনেক বছর ধরেই সন্তান জন্মদানের চেষ্টা করে আসছিলেন। এজন্য রেবেকা ও রাইস বহুবার চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছেন।

চিকিৎসা নিয়ে অবশেষে গর্ভধারণ করতে পারেন রেবেকা। কিন্তু গর্ভাবস্থায় তৃতীয় আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় চমকে যান রেবেকা। তার চিকিৎসকরা জানান, তিনি আবারও গর্ভধারণ করেছেন। এই পরীক্ষার সময় রেবেকা ১২ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে রেবেকা বলেন, ‘এটি আসলেই খুবই অবাক করা ছিল যে একটির জায়গায় দুটি বাচ্চা। তখন তারা আমাকে বলেন দুটি বাচ্চার মধ্যে তিন সপ্তাহের ব্যবধান রয়েছে যা চিকিৎসকদের বোধগম্য হচ্ছে না।’

রেবেকার পরিস্থিতি চিকিৎসকরা প্রধম দিকে বুঝতে পারছিলেন না। তার চিকিৎসক ও বাথের রয়াল ইউনাইটেড হাসপাতলের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড ওয়াকার বলেন, ‘এটি এত বিরল এক ঘটনা যে এরকম ঘটনা কতটি ঘটেছে তার প্রকৃত সংখ্যাও অজানা।’

jagonews24

ইউরোপিয়ান জার্নাল অব অবসটেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনেকোলজির ২০০৮ সালের এক প্রতিবেন অনুযায়ী, সে সময় পৃথিবীতে এ ধরণের ‘সুপার টুইনস’ এর ঘটনা দশটিরও কম ছিল।

রেবেকার এই গর্ভধারণকে সুপারফেটেশন নামে অভিহিত করা হয়। এটি এমন এক পরিস্থিতি যখন প্রথম গর্ভধারণের মধ্যেই দ্বিতীয় গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে। এটি ঘটে যখন ডিম্বাশয় থেকে দুটি পৃথক সময়ে ডিম্বানু বের হয়।

ওয়াকার বলেন, ‘ডিম্বানু মুক্তিকরণ বন্ধের পরিবর্তে, তিনি প্রথমটির তিন বা চার সপ্তাহ পরে আরেকটি ডিম্বানু ছেড়েছেন। এবং ডিম্বানুটি অলৌকিকভাবে নিষিক্ত হতে সক্ষম হয়েছে এবং জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।’

রেবেকার গর্ভধারণ বেশ চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করেছিল কারণ চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছিলেন, দ্বিতীয় সন্তানটি নাও বাঁচতে পারে।

তবে সৌভাগ্যক্রমে গত সেপ্টেম্বরে নোয়াহ ও রোসেলি নামে দুই জমজ শিশুর জন্ম দিয়েছেন রেবেকা।

রেবেকা বলেন, ‘এরা আমার সুপার টুইনস। প্রতিদিন এদের দিকে আমি তাকাই আর ভাবি, ওয়াও, আমি ভীষণ ভাগ্যবতী।’

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট

এমকে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]