মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পুতিনবিরোধী নেতা, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

কারাগারে থাকা রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো তার মৃত্যু হতে পারে। তার চিকিৎসার বিষয়ে এখনই গুরুত্ব দেয়া না হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

চিকিৎসকরা বলছেন, তার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তার কোনো সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা কিডনি অচল হয়ে যেতে পারে। এতে করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে এবং তার মৃত্যুও হতে পারে।

নাভালনি প্রায় ১৮ দিন ধরে অনসনে আছেন। তীব্র পিঠে ব্যথা এবং পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তার যতটুকু চিকিৎসা দরকার তিনি তা পাচ্ছেন না। উপযুক্ত চিকিৎসার দাবি জানিয়েই তিনি অনসন করছেন। ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক এবং দেশটির বিরোধী এই নেতার পিছনে উঠে পড়ে লেখেছে রুশ সরকার।

পুরোনো একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আনাসতাসিয়া ভেসিলিয়েভাসহ মোট চারজন চিকিৎসক তার সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে দেখা করার জন্য কারা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

ওই চিঠিটি টুইটারে পোস্ট করেছেন ভেসিলিয়েভা। সেখানে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নাভালনির দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে যে কোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং তাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না।

নাভালনির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কারা কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করেছেন তার চিকিৎসকরা। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও সাড়া পাননি তারা।

এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে নাভালনিকে ক্যামিকেল নার্ভ এজেন্ট নোভিচক প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। সে সময় নাভালনি অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া জানিয়েছেন, তার স্বামীর ওজন এখন ৭৬ কেজি (১৬৮ পাউন্ড)। অনসনে থাকার কারণে তার ওজন ৯ কেজি কমে গেছে।

নাভালনিকে বিষ প্রয়োগের হত্যা চেষ্টার পর থেকেই তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন আলেক্সান্ডার পোলুপান। তিনি একটি পোস্টে নাভালনির ব্লাড টেস্টের ফলাফলের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, এটা পুরোপুরি ইঙ্গিত করছে যে তার জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। নাহলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো তার মৃত্যু হতে পারে।

টিটিএন/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]