নাভালনি সমর্থকদের ওপর চড়াও পুতিন প্রশাসন, আটক ১৭০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনির সমর্থনে বুধবার রাশিয়ার কয়েক ডজন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এসময় আটক করা হয়েছে ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুসারে, বুধবার রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। এসময় তারা নাভালনির মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে দেশটির রাজধানী মস্কোতে।

রাশিয়ার আইন অনুসারে বিনাঅনুমতিতে বিক্ষোভ করলে কয়েক দিনের জেল বা জরিমানা হতে পারে।

jagonews24

ওভিডি-ইনফো নামে একটি পর্যবেক্ষক সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় রাশিয়ার ৯৭টি শহর থেকে অন্তত ১ হাজার ৭৮৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সবচেয়ে বেশি ৮০৫ জন আটক হয়েছেন সেইন্ট পিটার্সবার্গ থেকে। শহরটিতে শক স্টিক (বৈদ্যুতিক শক দেয়া লাঠি) নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিন আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নাভালনির প্রেস সচিব কিরা ইয়ারমিশ। অননুমোদিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানোয় তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে মস্কোর বাইরে একটি পেনাল কলোনিতে বন্দি রয়েছেন রুশ বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি। সেখানে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে অনশন করছেন তিনি। এর ফলে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

jagonews24

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাভালনিকে যেভাবে রাখা হয়েছে তা অমানবিক। এর আগে রাশিয়ার বেশ কয়েকজন চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কাপ্রকাশ করে বলেছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো নাভালনির মৃত্যু হতে পারে। চিকিৎসার বিষয়ে এখনই গুরুত্ব দেয়া না হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

চিকিৎসকরা জানান, নাভালনির রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে এটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তার যেকোনও সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা কিডনি অচল হয়ে যেতে পারে। এতে তার মৃত্যুও হতে পারে।

পুরোনো একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে পাঠানো হয় অ্যালেক্সেই নাভালনিকে। গত ৩১ মার্চ থেকে তিনি অনশন শুরু করেন।

এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে পুতিনের কড়া সমালোচক এ নেতাকে নোভিচক বিষপ্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘদিন জার্মানিতে চিকিৎসা নিয়ে পরে দেশে ফেরেন তিনি।

সেসময় নাভালনি অভিযোগ করেছিলেন যে, পুতিনের নির্দেশেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ক্রেমলিন বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]