মমতাই শুধু নন, নিজের আসনে হেরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন আরও অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ০৩ মে ২০২১ | আপডেট: ০৮:২৫ পিএম, ০৩ মে ২০২১

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দল জয় পেলেও নিজ আসন নন্দীগ্রামে ধাক্কা খেয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।

এখন অনেকের প্রশ্ন, ভোটে হারার পর মমতার ভাগ্য তাহলে কী হবে? তিনি কি টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন? এ নিয়ে ভারতের সংবিধান কী বলছে? সংবিধানে যাই থাকুক না কেন, এর আগেও কিন্তু পরাজিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার নজির রয়েছে ভারতে।

এই যেমন, নির্বাচিত বিধায়ক না হয়েও সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেন তিরথ সিং রাওয়াত।

এছাড়া ১৯৫২ সালে মুম্বাইতে বিধানসভা নির্বাচনে দাপটে কংগ্রেস নেতা মোরারজি দেশাইকে হারতে হয়েছিল। এরপর মুম্বাই কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদেও বসেন।

অপরদিকে একই বছর নির্বাচনে না লড়েই মাদ্রাজের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সি গোপালাচারী। হেরে যাওয়ার ভয়ে তিনি নির্বাচনে লড়াই করেননি। পরে রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য হন। শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর গদিতেও বসেন।

১৯৭০ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ত্রিভুবন নারায়ণ সিং নির্বাচনে হেরে যান। এরপর ৬ মাসের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনেও বসেছিলেন। পরে অবশ্য উপনির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০০৯ সালে ঝাড়খণ্ডে পরাজিত হন শিবু সোরেন। তারপরও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ৬ মাস পর ফের মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের চাপে শেষপর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

তাহলে মমতা ব্যানার্জির কী এমনই কিছু হবে? এ বিষয়ে ভারতের সংবিধান কী বলছে?

ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ (৪) নং ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়। তবে মসনদে বসার ছয় মাসের মধ্যে তাকে অন্য কোনো আসন থেকে জিতে আসতে হবে।

একই কথা বলেন, তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে ছয় মাস পরও তিনি কাজ চালিয়ে গেলে তাকে রাজ্যের কোনো একটি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। নানা নাটকীয়তা শেষে এ আসনে শেষপর্যন্ত জয়ী ঘোষণা করা হয় শুভেন্দুকে। তিনি এক লাখ ৯ হাজার ৬৭৩ ভোট পান। আর মমতা পান এক লাখ ৭ হাজার ৯৩৭ ভোট।

এক্ষেত্রে হারলেও মমতার মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা নেই। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আসন পাকাপোক্ত করতে হলে তাকে রাজ্যের কোনো একটি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]