উন্নত চিকিৎসা নিতে জার্মানি গেলেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ১৩ মে ২০২১

বোমা হামলায় আহত মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ নাশিদ উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

গত ৬ মে রাজধানী মালেতে নিজের বাসার পাশেই বোমা হামলার শিকার হন নাশিদ। এরপর তিনি হাসপাতালে ইনটেন্সিভ কেয়ারে ছিলেন।

সংসদের বর্তমান এই স্পিকারকে ১৬ ঘণ্টা ধরে অপারেশন করা হয়। তার ফুসফুস, পাকস্থলি ও লিভার থেকে বোমার বিভিন্ন অংশ সরানো হয়।

পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছ। ধারণা করা হচ্ছে তারা ইসলামি চরমপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তদন্তকারীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন। কোনো গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

নাশিদের পার্ক করা গাড়ির পাশে একটি মোটরবাইকে বোমাটি লাগানো ছিল। বিস্ফোরণে একজন ব্রিটিশ নাগরিকসহ আরও দুজন আহত হন।

মালদ্বীপ মূলত বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। তবে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইসলামপন্থী জঙ্গি তৎপরতার ঘটনাও ঘটেছে।

মামুন আবদুল গাইয়ুমের ৩০ বছরের শাসনের পর মোহাম্মাদ নাশিদ ২০০৮ সালে মালদ্বীপে প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

২০১২ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নাশিদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পরের বছর বিতর্কিত নির্বাচনে গাইয়ুমের সৎ ভাই আবদুল্লা ইয়ামিনের কাছে তিনি পরাজিত হন।

২০১৫ সালে নাশিদকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় মালদ্বীপের আদালত। এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা তৈরি হয়। এর এক বছর পর লন্ডনে চিকিৎসা নিতে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান। ২০১৬ সাল থেকে তিনি লন্ডনে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে থাকেন। ২০১৮ সালে নাশিদের মনোনিত প্রার্থী সোলিহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করার পর তিনি মালদ্বীপে ফিরে আসেন।

২০১৯ সালে নাশিদ সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এটি মালদ্বিপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদ।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালদ্বীপে মোহাম্মাদ নাশিদ ইসলামপন্থী জঙ্গীদের একজন কঠোর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত।

এমকে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]