মিডিয়া ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দায় সরব সাংবাদিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৭ পিএম, ১৫ মে ২০২১ | আপডেট: ১২:১৬ এএম, ১৬ মে ২০২১

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ও আবাসিক স্থাপনা টার্গেট করে বেপরোয়া হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী মিডিয়া হাউসগুলোর কার্যালয় ভবনে আক্রমণ চালিয়েছে। শনিবার (১৫ মে) এমনই এক হামলা চালিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সংস্থা এবং সংগঠনগুলো। তারা বলছে, গাজায় যা ঘটছে তা থেকে বিশ্ববাসীকে অন্ধকারে রাখতে গণমাধ্যমকে টার্গেট করে হামলা চালানো হছে।

গাজার চিত্রকে আড়াল করতে মিডিয়ার স্থাপনায় হামলা

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস-এর ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি জেরেমি ডিয়ার বলেছেন, ‘আমি স্তম্ভিত এবং সন্ত্রস্ত। গাজায় যা চলছে তা আড়াল করার আরেকটি চেষ্টা হিসেবেই মিডিয়ার স্থাপনার ওপরে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়া হাউসের ভবনে এটা তৃতীয় হামলা। সাংবাদিকদের মারধর এবং আটকের ৩০টি ঘটনা আমাদের কাছে এসেছে। এটা একেবারেই স্পষ্ট যে, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। গাজায় যা ঘটছে তার খবর প্রকাশ বন্ধ করার জন্য মিডিয়ার ওপর পরিকল্পিত হামলা এটি।’

ইসরায়েলকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে আল জাজিরা

এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তারা বলছে, গাজার চিত্রকে বিশ্বকে জানানোর কার্যক্রমে বাধা এবং ঘটনাস্থল থেকে রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের আটকানোর চেষ্টারই ধারাবাহিকতায় এ হামলা হয়েছে।

আল জাজিরা সম্ভাব্য সকল উপায়ে ইসরায়েল সরকারকে এ হামলার জন্য জবাবদিহি করাতে বাধ্য করারও অঙ্গীকার করেছে।

আজকের ঘটনার কারণে বিশ্ব গাজার চিত্র সম্পর্কে কম জানতে পারবে

এপির প্রেসিডেন্ট এবং সিইও গ্যারি প্রুইট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী এপি এবং অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলোর কার্যালয় ভবনে হামলা করায় আমি স্তব্ধ এবং সন্ত্রস্ত।’

‘ওই ভবনে হামলা হতে পারে এমন বার্তা আমরা পেয়েছিলাম। তারা (ইসরায়েল) অনেক আগে থেকেই জানতো যে ওই ভবনে আমাদের ব্যুুরো অফিস এবং সাংবাদিকরা ছিল। আমরা খুব অল্পের জন্য বহু প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। এপির এক ডজন সাংবাদিক এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সেখানে ছিল। সৌভাগ্যক্রমে আমরা তাদের সেখান থেকে বের করে নিতে পেরেছিলাম।’

‘গাজায় যা ঘটছে তা বিশ্ববাসী আরও কম জানতে পারবে আজকের এই ঘটনার কারণে (মিডিয়ার স্থাপনায় হামলা করে কার্যক্রমে বাধা দেয়ায়)।’

মিডিয়াকে টার্গেট করার ইতিহাস ইসরায়েলের পুরনো

ইথিক্যাল জার্নালিজম নেটওয়ার্কের আইদান হোয়াইট বলেন, ‘মিডিয়া ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া খুবই লজ্জাজনক এবং সবচেয়ে বেপরোয়া কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের সংঘর্ষের এলাকায় সাংবাদিকরা কী ধরনের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন, তা এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেলো। সমালোচনা বন্ধ করার জন্যই মিডিয়ার ওপর এই হামলা বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ কথা হচ্ছে, (গাজায়) যা ঘটছে তা লুকানোর চেষ্টা এটা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ ধরনের সংঘাতে এটি অস্বাভাবিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন বুলেট ওড়ে বা বোমা পড়ে তখন কোনো না কোনো পক্ষের দ্বারা মিডিয়া আক্রান্ত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার ইসরায়েল, চুপ করানোর জন্য মিডিয়াকে টার্গেট করার যাদের পূর্ব-ইতিহাস রয়েছে।’

শনিবার সন্ধ্যায় আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা চালিয়ে গাজার ১১তলা বিশিষ্ট আল-জালা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভবনটিতে আল-জাজিরা, এপিসহ কিছু মিডিয়া অফিসের কার্যালয় ছিল। ছিল কিছু আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টও।

আল জাজিরার লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমায় মুহূর্তেই ভবনটি ধসে পড়ে। তখন ধ্বংসস্তূপ থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছিল।

গত ১০ মে থেকে শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মোট ১৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৯ জনই শিশু। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৫০ জন।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]