কোভ্যাক্সিনের ছাড়পত্র আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১১ এএম, ১২ জুন ২০২১

মানবদেহে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তৃতীয় পর্বের সম্পূর্ণ ফল জমা দিতে না পারায় ছাড়পত্র আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এতে কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ভারতীয়দের নতুন করে টিকা নিতে হতে পারে।

তবে ভারত সরকারের দাবি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় ধাপের ফল প্রকাশ হবে। যার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়পত্রও পেয়ে যাবে হায়দারাবাদের সংস্থাটি।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, মার্চ মাস পর্যন্ত পরীক্ষার ফল জমা দিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু মে মাসে এফডিএ নতুন নিয়ম চালু করে জানায়, এবার থেকে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অন্তত তৃতীয় দফার গবেষণার সম্পূর্ণ ফলাফল জমা দিলে তবেই ছাড়পত্র দেয়া হবে কোনো টিকার।

কোভ্যাক্সিন উৎপাদনকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক জানায়, জুলাইয়ের শেষদিকে সম্পূর্ণ ফল হাতে পাবে তারা। তার ভিত্তিতে ফের আবেদন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোভ্যাক্সিন উৎপাদন ও বণ্টনের জন্য ভারত বায়োটেকের সঙ্গে চুক্তি করেছে অকুজেন নামে একটি সংস্থা। ওই সংস্থার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি ভিত্তিতে তাদের টিকা ব্যবহারের ছাড়পত্র চেয়েছিল ভারত বায়োটেক।

কিন্তু গতকাল আবেদন খারিজ করে এফডিএ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের যে তথ্য জমা পড়েছে তা অসম্পূর্ণ ও আংশিক। আরও বেশকিছু রিপোর্ট জমা পড়লে ও ফলাফল ইতিবাচক হলে বায়োলজিক্স লাইসেন্স অ্যাপ্লিকেশন (বিএলএ) বা সে দেশে প্রতিষেধক ব্যবহারের সম্পূর্ণ ছাড়পত্র দেয়া হবে।

এক বিবৃতিতে অকুজেন জানিয়েছে, সামনে কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় দফার পরীক্ষার ফলাফল এফডিএ’র কাছে জমা দিয়ে সম্পূর্ণ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হবে। এতে কিছু বাড়তি সময় লাগলেও যুক্তরাষ্ট্রে কোভ্যাক্সিন প্রতিষেধক আনতে সংস্থাটি বদ্ধপরিকর।

এ বিষয়ে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বিনোদ পল বলেন, ‘নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কাঠামো বা নির্দেশাবলি মেনে ছাড়পত্র দেয়া হলেও প্রতিটি দেশের কিছু আলাদা আলাদা শর্ত থাকে। কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় দফার ফলাফাল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামনে আসতে চলেছে। আশা করি, তার ভিত্তিতে আবেদন জানালে ছাড়পত্রের সমস্যা হবে না। ভারতে টিকাকরণ কর্মসূচিতে এর প্রভাব পড়ার কোনো কারণ নেই।’

এদিকে, মানবদেহে তৃতীয় দফার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল জমা দিতে না পারায় এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) ছাড়পত্র দেয়নি কোভ্যাক্সিনকে। যে কারণে ভারত থেকে কোভ্যাক্সিন প্রতিষেধক নিয়ে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে গেলে নতুন করে ডব্লিউএইচও-স্বীকৃত টিকা নিতে বলা হচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার ফল হাতে আসার পরে এ নিয়ে অস্বস্তি কেটে যাবে বলে মনে করছে ভারত বায়োটেক।

ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]