দিল্লির রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন লাগানোর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ১৪ জুন ২০২১

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রায় নয় বছর ধরে বসবাস করছেন দিল্লির মদনপুর খাদার অঞ্চলে। শনিবার রাতে সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে। দমকল বাহিনীর ১১টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রোববার। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুনে শরণার্থী শিবিরের ৫৩টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের খবর অনুসারে, ভারতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রাখার জন্য আলাদা কোনো জায়গা তৈরি করা হয়নি। জম্মু, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু অঞ্চলে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছিলেন। যদিও এসব মুসলিম শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই নেতিবাচক ভারত সরকার। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘের চাপে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়া না হলেও বসবাসের উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হয়নি।

দিল্লির রোহিঙ্গা শিবিরের অবস্থাও অস্বাস্থ্যকর। উপায় না থাকায় সেখানেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন শরণার্থীরা। সম্প্রতি জম্মু থেকে বেশ কিছু রোহিঙ্গা সেখানে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের ক্যাম্প থেকেও পাঠানো হয়েছে কিছু শরণার্থীকে। এর মধ্যেই আশ্রয় শিবিরটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

jagonews24

সাংবাদিক এবং মানবাধিকার সংগঠন পিইউডির কর্মকর্তা আশিস গুপ্ত ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, মদনপুর খাদার শরণার্থী শিবিরে এর আগেও আগুন লেগেছে। তখন অভিযোগ উঠেছিল, রাতের অন্ধকারে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এবার কীভাবে আগুন লেগেছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে অনেকেই এবারও আগুন ইচ্ছাকরে লাগানোর অভিযোগ করছেন।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আর পি মীনা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য, পুলিশ প্রতিবারই তদন্তের আশ্বাস দেয়, কিন্তু পরে আর কোনো তথ্য জানায় না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রোহিঙ্গা শিবিরের এক বাসিন্দা ডয়েচে ভেলেকে জানান, জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য শনিবার সকালে একদল লোক তাদের ওখানে গিয়েছিল। সেই রাতেই আগুন লাগে। বস্তুত, ক্যাম্পের জায়গা ফাঁকা করার চেষ্টা চলছে অনেক দিন ধরেই।

এ অবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, শরণার্থী শিবির তুলে দিলে আশ্রিত রোহিঙ্গারা কোথায় যাবেন? তাদের কি ডিটেনশন ক্যাম্পে নেয়া হবে?

সম্প্রতি জম্মুতে বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]