গৃহকর্মীকে নির্যাতন-হত্যা, সিঙ্গাপুরে নারীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২২ জুন ২০২১

গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন অনাহারে রাখা, নির্যাতন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যার ঘটনায় সিঙ্গাপুরের এক নারীকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়। ওই গৃহকর্মী মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন।

আদালতের রায়ের সময় এই হত্যাকাণ্ডকে ‘সবচেয়ে নিন্দনীয় নরহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধনী নগররাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুরে প্রায় আড়াই লাখ গৃহকর্মী কাজ করেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই এশিয়ার বিভিন্ন দরিদ্র দেশ থেকে এসেছেন। এসব গৃহকর্মীদের ওপর প্রায়ই অত্যাচার, নির্যাতনের খবর সামনে আসে।

আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, পিয়াং নাইহ ডন নামে ২৪ বছর বয়সী ওই গৃহকর্মীর ওপর অমানবিক অত্যাচার, নির্যাতন চালানো হয়েছে। সে যে বাড়িতে কাজ করত সেখানকার সিসিটিভির ফুটেজ থেকে তার ওপর বর্বর নির্যাতনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

ওই গৃহকর্মীকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। লাথি দেয়া, ঝাড়ুর বাড়ি, লোহার রড গরম করে ছ্যাক দেয়া হতো। এমনকি মার খেতে খেতে অনেক সময় তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো। কিন্তু বাড়ির লোকজনের তাতে সামান্য সহানুভূতিও কাজ করেনি। এভাবে মার খেতে খেতেই প্রাণ দিয়েছে ওই গৃহকর্মী।

২০১৬ সালের জুলাই মাসে ওই গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়। এতদিন ধরে এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল। ওই গৃহকর্মীকে কাজে রাখার পর থেকেই তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করেন গায়িথ্রি মুরুগায়েন। কখনও কখনও তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হতো।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিকৃষ্টতম নরহত্যাসহ বেশ কিছু অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন গায়িথ্রি (৪১)। তার ওপর সাজা আরোপের ক্ষেত্রে আরও ৮৭টি অভিযোগ আমলে নিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে আদালতে রায় পড়ে শোনানোর সময় তাকে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা গেছে।

গায়িথ্রির স্বামী একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ২০১৫ সালে নিজেদের চার বছর বয়সী মেয়ে এবং এক বছর বয়সী ছেলের দেখাশুনা করার জন্য তারা পিয়াং নাইহ ডনকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই গায়িথ্রি ওই গৃহকর্মীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। কোনও কোনও দিন অত্যাচারের মাত্রা অনেক বেড়ে যেত। মাঝে মাঝে গায়িথ্রির মা (৬১) মেয়ের সঙ্গে মিলে ওই গৃহকর্মীকে অত্যাচার করতেন।

টিটিএন/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]