একসঙ্গে ১০ সন্তান জন্মদানের খবরটি সত্য নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০২ পিএম, ২৪ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৭:১৫ পিএম, ২৪ জুন ২০২১

চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এক নারী একসঙ্গে ১০ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, সেটি সত্য নয়। দেশটির সরকারি তদন্তে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য উঠে এসেছে।

একসঙ্গে ১০ শিশু জন্ম দেয়াকে ডেকুপ্লেটস বলা হয়। স্থানীয় সরকার বলছে, গৌতেং প্রদেশের কোনো হাসপাতালে ডেকুপ্লেটস জন্মগ্রহণের রেকর্ড নেই। এমনকি মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে, যে নারী ১০ সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়েছে, তিনি সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বাই হননি।

জানা যায়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইন (আইওএল) মিডিয়া গ্রুপের প্রিটোরিয়া নিউজ সর্বপ্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় একসঙ্গে ১০ শিশু জন্মের খবর প্রকাশ করে এবং এরপর বিতর্ক হলেও তারা নিজেদের প্রতিবেদনের তথ্যের ব্যাপারে অটল ছিল।

jagonews24

খবরে বলা হয়েছিল, গোসিয়াম সিথোল নামে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী গত ৭ জুন প্রিটোরিয়ার স্টিভ বিকো একাডেমিক হাসপাতালে (এসবিএইচ) ১০টি বাচ্চা প্রসব করেছেন। এসময় হাসপাতালের কর্মীদের যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না এবং তারাসহ প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ওই নারীর চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে স্থানীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ মিথ্যা। স্টিভ বিকো একাডেমিক হাসপাতাল ও গৌতেং প্রদেশীয় সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্যই এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রিটোরিয়া নিউজের সম্পাদক পিয়েট রাম্পেদি এবং আইওএলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

গল্পের সৃষ্টি যেভাবে
গোসিয়াম সিথোল তার ছয় বছরের যমজ সন্তান এবং সঙ্গী তেবোভো সোটেটসির সঙ্গে গৌতেং প্রদেশের থেম্বিসা এলাকায় বসবাস করেন।

jagonews24

আইওএলের তথ্য অনুসারে, গত ডিসেম্বরে একটি গির্জায় রাম্পেদির সঙ্গে ওই দম্পতির দেখা ও পরিচয় হয়।

প্রিটোরিয়া নিউজ সম্পাদকের ভাষ্যমতে, গত মে মাসে তিনি সেই দম্পতির সাক্ষাৎকার নেন। এসময় তারা আটটি শিশু জন্ম দেয়ার প্রত্যাশা করছেন বলে জানিয়েছিলেন। একটি ফটোশুটে সিথোলের বিশাল পেটও দেখতে পাওয়া যায়।

পরে গত ৮ জুন প্রিটোরিয়া নিউজে একসঙ্গে ১০টি শিশু জন্মের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে তথ্যের সূত্র হিসেবে কথিত সন্তানদের বাবা সোটেটসিকে উদ্ধৃত করা হয়েছিল।

সোটেটসি বলেছিলেন, তার সঙ্গী মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে হাসপাতালে ঢোকার অনুমতি দেয়া হবে না।

রাম্পেদিও সোটেটসির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেছিলেন এবং তিনি হাসপাতাল থেকে এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি।

তবে স্থানীয় মেয়র শিশুগুলোর জন্মের খবর নিশ্চিত করার পরপরই বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি প্রকাশ করতে থাকে। পরে অবশ্য একজন সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, তারা কেবল পরিবারের কথা শুনেই গণমাধ্যমকে এই তথ্য দিয়েছিলেন। সচক্ষে কেউ সেই শিশুদের দেখেননি।

jagonews24

এদিকে, খবর প্রকাশের পর ওই দম্পতি এবং তাদের দাবি করা ১০ সন্তানের জন্য চারদিক থেকে অনুদানের বন্যা শুরু হয়। ‘থেম্বিসা ১০’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই ঘটনায় আইওএলের চেয়ারম্যান ইকবাল সুরভ ৭০ হাজার ডলার দান করেন।

তবে ঘটনাটি ঘিরে ধীরে ধীরে সন্দেহ বাড়তে থাকে। কারণ প্রিটোরিয়া নিউজ প্রথমদিকে হাসপাতালের নাম প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়, যেখানে ওই শিশুদের জন্ম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল। সেসময় স্থানীয় একাধিক হাসপাতাল এই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। শিশু জন্ম দেয়া হয়েছে বলে দাবি করার ১০ দিন পরে আইওএল এসবিএএইচের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে।

প্রিটোরিয়া নিউজ জানায়, ওই ঘটনার পর সিথোল-সোটেটসি দম্পতির মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সিথোল নিখোঁজ দাবি করে ঘটনার এক সপ্তাহ পরে অনুদান দেয়া বন্ধ করতে বলেন সোটেটসি। আর সিথোলের অভিযোগ, তার জীবনসঙ্গী নিজেই বাচ্চাদের নামে পাওয়া অনুদান ভোগ করতে চান।

পরে সমাজকর্মীরা সিথোলকে খুঁজে বের করেন এবং গত শুক্রবার হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাকে বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের অধীনে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

নিউজ ২৪-এ ফাঁস হওয়া একটি মেমোতে দেখা গেছে, রাম্পেদি সম্প্রতি আইওএলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ওই খবরটির কারণে প্রতিষ্ঠানটির যে সম্মানহানি হয়েছে, সে কারণে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

প্রিটোরিয়া নিউজের সম্পাদক বলেছেন, এটিকে তিনি সুখ-সংবাদের পরিবর্তে তদন্তমূলক প্রতিবেদন হিসেবে উপস্থাপন করতে পারতেন। তার আরও ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত ছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]