কানাডায় আবাসিক স্কুলে আবারও মিলল শতাধিক কবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ২৪ জুন ২০২১

কানাডার একটি আদিবাসি সংগঠন জানিয়েছে, তারা সাসকাচেওয়ান প্রদেশে পূর্বেকার একটি আবাসিক স্কুলে শতাধিক চিহ্নহীন কবর পেয়েছেন। খবর বিবিসির।

কাউয়েসেস ফার্স্ট ন্যাশন নামে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার পাওয়া এই কবরগুলো কানাডার ইতিহাসে পাওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বস্তু। তবে ঠিক কতটি কবর পাওয়া গেছে তা তারা জানায়নি।

এ ঘটনা এমন এক সময় ঘটল যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।

এই বোর্ডিং স্কুলগুলো ১৯ ও বিশ শতকে কানাডা সরকার ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত হত।

কাসকাচেওয়ানের ম্যারিভাল ইন্ডিয়ান আবাসিক স্কুলের গোরস্থানে চিহ্নহীন কবর খুঁজে বের করার জন্য গতমাসে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধানের রাডার ব্যবহার করা শুরু করে কাউয়েসেস।

সংগঠনটি এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।

অ্যাসেম্বলি অফ ফার্স্ট ন্যাশন্সের অ্যাসেম্বলি চিফ পেরি বেলেগার্ডে এ ঘটনাকে ‘দুঃখজনক কিন্তু আশ্চর্যের নয়’ বলে উল্লেখ করেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘এই অতি কঠিন ও আবেগময় সময়ে ফার্স্ট ন্যাশন্সের পাশে দাঁড়াতে আমি সকল কানাডীয়র প্রতি অনুরোধ জানাই।’

কানাডায় ১৮৬৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ১৩৫ বছর ধরে দেড় লাখেরও বেশি আদিবাসী শিশুকে তাদের পরিবার থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে এসব স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। অধিকাংশ সময়েই এসব শিশুদের তাদের নিজের ভাষায় কথা বলতে বা নিজেদের সংস্কৃতি চর্চা করতে দেয়া হত না। এদের অনেককে দুর্ব্যবহার ও নিপীড়ন করা হতো।

এসব স্কুলের প্রভাব কেমন হয়েছিল তা জানতে ২০০৮ সালে একটি কমিশন গঠন করা হয়। স্কুলগুলোর বড় সংখ্যক শিশুই তাদের নিজেদের সম্প্রদায়ে আর ফিরে আসেনি বলে অনুসন্ধানে জানতে পারে কমিশন।

এই শিক্ষাব্যবস্থার জন্য কানাডা সরকার ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়।

এমকে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]