মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৩০ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ২৫ জুন ২০২১

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ক্ষমতা দখলের পর থেকে অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত ১ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সু চি-র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এরপর মিয়ানমারে শুরু হয় সেনাবাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থীদের লড়াই। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিয়ানমারের কারেন অঞ্চল। থাইল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা রাজ্যাটিতে এরই মধ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শুধু গত মাসেই ঘরছাড়া হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। ভারতের সীমান্ত লাগোয়া শিন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন ও শান রাজ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো মানুষ।

জাতিসংঘ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোয় শিগগিরই ত্রাণ, মানবিক সাহায্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘ আরও জানায়, অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ পৌঁছিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু সংঘাতপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছে মিয়ানমার জান্তা সরকার। ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে গণতন্ত্রকামীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে সেনাবাহিনী। যাতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৭৭ জন। আটক রাখা হয়েছে ছয় হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১৮ জুন মিয়ানমারের ওপর অস্ত্রনিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটির জান্তা সরকারের প্রতি একটি নিন্দাপ্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে সেখানে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্রনিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে ১১৯টি দেশ। স্বৈরশাসিত বেলারুশই একমাত্র এর বিপক্ষে মত দেয়। আর চীন-রাশিয়াসহ মোট ৩৬টি দেশ প্রস্তাবে মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে সবথেকে বেশি অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে চীন ও রাশিয়া। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শুধু রাশিয়ার কাছ থেকেই দেড়’শ কোটি ডলারের বেশি সেনাসরঞ্জাম কিনেছে মিয়ানমার।

সূত্র: আল জাজিরা

এএমকে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]