পেগাসাসের ফাঁদে দুই প্রিন্সেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাসে সম্ভাব্য ভুক্তভোগী দুই প্রিন্সেস লতিফা ও হায়া। তাদের ফোন নম্বরও চিহ্নিত করা হয়েছে পেগাসাস প্রজেক্টে, এমনটাই জানিয়েছে বিবিসি।

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা লতিফা এবং তার সাবেক স্ত্রী ও জর্ডানের প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসাইন। আলোচিত প্রিন্সেস লতিফা ও জর্ডানের প্রিন্সেস হায়ার ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে বলে মনে করছে অনুসন্ধানকারীরা।

এ বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বিবিসিকে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় প্রিন্সেস লতিফা অভিযোগ করেন, তার জীবন বিপণ্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ তুলে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে ধরা পড়ে যান। প্রিন্সেস হায়াও ২০১৯ সালে প্রাণভয়ে দুবাই থেকে পালিয়ে যান। যদিও তাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপের রফতানি করা পেগাসাস দিয়ে ৫০ হাজার ফোন নম্বর হ্যাকিংয়ের সম্ভাব্য তালিকায় তাদের নম্বরও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনের মুখে লতিফা পরিবার ছেড়ে পালানোর সময় ফোনে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে যে আলোচনা হয় তাতে নজরদারি হতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বক্তব্যে বলেছে, এই দুই নারীর ওপর নজরদারি করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ।

পেগাসাস স্পাইওয়্যারের বিক্রেতা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। এনএসও দাবি করছে, এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। তারা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাছাইকৃত সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এই প্রযুক্তি বিক্রি করে আসছে।

তাদের দাবি, ভুল তথ্য আর ধারণার ওপর নির্ভর করে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে, এটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ ব্যক্তিদের টার্গেট করে প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইসরাইয়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, ইসরাইয়েল সরকার একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে পেগাসাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে।

২০১৯ সাল থেকে ‘দ্য পেগাসাস প্রজেক্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ফোনে নজরদারির বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি অনুসন্ধানী টিম। ১৭টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানের একটি রিপোর্ট গত রোববার প্রকাশিত হয়। এরপর তোলপাড় শুরু হয় গোটা বিশ্বে।

ফরেনসিক বিশ্লেষণে উঠে আসে, স্মার্টফোনের তথ্য তারা হ্যাক করে নেয় পেগাসাস স্পাইওয়্যার। নজরদারির শিকার হন মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার ফোন হ্যাক করে নেয়া হয় এই পেগাসাসের মাধ্যমে। আড়িপাতা হয় ১৮০ জন সাংবাদিকের ফোনেও।

এসএনআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]