গায়ে নিজে কাদা মেখে সংবাদ প্রচার, ক্ষমা চাইলেন জার্মান সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

বন্যাকবলিত একটি এলাকায় গিয়ে কাপড়ে এবং মুখে কাদা মেখে সংবাদ প্রচারের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন জার্মানির একটি টেলিভিশনের প্রতিবেদক। সুসানা ওহলেন নামের ওই সাংবাদিক দাবি করেন, গত সোমবার আরটিএল এর গুড মর্নিং জার্মানি অনুষ্ঠান ধারণের আগে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করেছেন।

অনুষ্ঠান প্রচারের সময় তার কাপড় এবং মুখে কাদা লেগে থাকতে দেখা যায়। যদিও অনুষ্ঠান প্রচারের আগে সেটা তিনি নিজেই লাগিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। ভয়াবহ বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সংবাদ প্রচারের সময় কাপড়ে এভাবে কাদা মাখার ঘটনাকে আরটিএল এর উপস্থাপক সুসানা ওহলেন (৩৯) বড় ধরনের ভুল বলে উল্লেখ করেন।

ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে এটা আমার কখনওই করা উচিত হয়নি। কিন্তু আমার দ্বারা এমন ঘটনা ঘটে গেছে। এজন্য আমি খুবই দুঃখিত।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকার লোকজনকে সাহায্য করছি। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্যান্য উদ্ধার কর্মীদের সামনে পরিষ্কার পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে আমার ভীষণ লজ্জা লাগছিল। সে কারণে কোনও কিছু না ভেবেই আমি নিজের কাপড়ে কাদা মেখে নিয়েছিলাম।

কিন্তু কাপড়ে কাদা লাগানোর পেছনে নিজের যুক্তি দেখালেও পরবর্তীতে সেই নোংরা কাদা কেন মুখেও লাগিয়েছেন সে বিষয়ে কোনও কারণ দেখাননি তিনি। এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন ওই সাংবাদিক।

বেনামি একটি সূত্র থেকেই মূলত তার এই কাদা মাখার ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তিনি তার টিম নিয়ে একটি ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বন্যার কারণে আশেপাশের সবকিছু ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। সেখানেই একটি জায়গা থেকে নিজের গায়ে এবং কাপড়ে কাদা মাখেন ওহলেন। কাছেই একটি বাড়ি থেকে কেউ একজন এই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।

এদিকে জার্মানির অন্যতম বেসরকারি প্রচারমাধ্যম আরটিএলএর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকতার নীতিমালা এবং আমাদের নিজেদের কাজের মানদণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনা সাংঘর্ষিক। আমরা তাকে ইতোমধ্যেই বরখাস্ত করেছি।

গত সপ্তাহে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখন পর্যন্ত বন্যার কারণে কমপক্ষে ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অনেক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।

টিটিএন/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]