পেগাসাসের কারণে লাখ লাখ মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে, দাবি নির্মাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

চলমান বিতর্কের মধ্যে ইসলায়েলের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এনএসও দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থারগুলোর কাছে পেগাসাসের মতো প্রযুক্তি থাকায় পৃথিবীর লাখ লাখ মানুষ নিরাপদে রাতে ঘুমাতে ও রাস্তায় হাঁটতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, তারা এটি পরিচালনা করে না কিংবা গ্রাহকদের সংগৃহীত উপাত্তে কোনো অ্যাকসেসও নেই। এনএসও এর মুখপাত্র বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাহায্য ও যেকোনো ধরনের অপরাধ তদন্ত, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেগাসাস এবং এ ধরনের সকল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান।

এনএসও কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা বিভিন্ন দেশের সরকারকে সহায্য করার জন্য এবং অন্যান্য সাইবার ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠানকে পেগাসাসের মতো প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে। কারণ, অনেক সময় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থারগুলোর কাছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় থাকে না। তবে সেগুলো পেগাসাসের মতো অ্যাপ দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব।

২০১৯ সাল থেকে ‘দ্য পেগাসাস প্রজেক্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ফোনে নজরদারির বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি অনুসন্ধানী টিম। ১৭টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানের একটি রিপোর্ট গত রোববার প্রকাশিত হয়। এরপর তোলপাড় শুরু হয় গোটা বিশ্বে।

ফরেনসিক বিশ্লেষণে উঠে আসে, বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার স্মার্টফোনের তথ্য তারা হ্যাক করেছে বা করার চেষ্টা হয়েছে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে। নজরদারির শিকার হয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আড়িপাতা বা এর চেষ্টা হয়েছে ১৮০ জন সাংবাদিকের ফোনেও।

তবে পেগাসাস নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে এর নির্মাতা এনএসও বলছে, একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে ভারতে এ ধরনের অভিযোগ প্রথম সমনে আসার পর প্রতিষ্ঠানটি লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, অ্যাপটির অপব্যবহার বন্ধে আমরা পদক্ষেপ নেব। এ প্রযুক্তির প্রধান কাজ জাতিসংঘের নীতিমালা মেনে মানবাধিকার রক্ষা করা।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]