আফগান যুদ্ধ: ভয়-আতঙ্কে কান্দাহার ছাড়ছে বহু মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২১
ছবি-সংগৃহীত

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেনা প্রত্যাহার ঘোষণা করার পর আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে তালেবান। কয়েক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলো দখলে নেয় তারা। এরপর ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকে শহর দখলের জন্য। মার্কিন প্রশাসন সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পরপরই আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই শুরু হয় তালেবানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। দুই পক্ষের লড়াইয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। ভয় আর আতঙ্কে এ পর্যন্ত ভিটে ছাড়া হয়েছেন দেড় লাখের মতো মানুষ।

কায়সার সামা, কান্দাহারের বাসিন্দা, পরিবারসহ পালিয়ে গেছেন রাজধানী কাবুলে। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে কায়সার অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্প্রতি আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার প্রায় দখলে নিয়েছে তালেবান। ফলে সেখানে বসবাস করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়ে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ছাড়া মার্কেটে যাওয়া বিপদ। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। বলা যায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেমে গেছে সেখানে।’

jagonews24

কান্দাহারের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘তারা সব সময় ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে থাকেন, কখন তালেবান তাদের বাড়িতে চলে আসে। কারণ লড়াই একেবারে শহরের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।’

২৩ বছর বয়সী আরেক বাসিন্দা নাভিদ আমিনি বলেন, তিনি জন্মের পর থেকে কান্দাহারে বসবাস করছেন কিন্তু এমন ভয়ানক পরিস্থিতি আর কখনো দেখেননি কয়েক সপ্তাহ ধরে যা ঘটছে। সামার মতো তিনিও বলেন, তালেবান পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কান্দাহার থেকে আল জাজিরাকে ফোনে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি আরও বলেন, শহরের চারপাশে এখন যুদ্ধ চলছে।

কান্দাহারের ৪টি জেলায় যুদ্ধ চলছে আফগান বাহিনী ও তালেবানের। তারা বেশিরভাগ ভবন দখল করে যুদ্ধ চালাচ্ছে। সংঘর্ষের সময় বেছে নেয়া হচ্ছে বাড়ির ছাদও।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলে, তালেবানরা সরকারের পক্ষের লোকজনকে জড়ো করছে আর বেছে বেছে হত্যা করছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে হত্যার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়ার পরপরই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। যদিও তালেবান এটিকে প্রোপাগান্ডা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

jagonews24

স্পিন বোলদাখের জনপ্রিয় বাজার এলাকায় গত ১৬ জুলাই আফগান-তালিবান সংঘর্ষে নিহত হন তরুণ সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। এরপর সম্প্রতি জনপ্রিয় আফগান কৌতুক অভিনেতা নজর মহম্মদ ওরফে খাসা জওয়ানের মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও তালেবানের দাবি, নজরের মৃত্যুতে তাদের কোন হাত নেই। এ ঘটনার পর আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। শহর ছাড়তে শুরু করেন তারা।

সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ‘২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে বিস্ফোরক হামলায় ৫০১ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছন এক হাজার চারশো ৫৭ জন।’ আফগান সরকারি বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানী কাবুলের চারপাশে শরণার্থী শিবির তৈরি করা হয়েছে। কান্দাহার ও অন্যান্য তালেবান অধ্যুষিত এলাকা ছেড়ে সাধারণ মানুষ এই সব শরণার্থী শিবিরেই আশ্রয় নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি মানুষ ঠাঁই নিয়েছে এসব শিবিরে।

সূত্র: আল জাজিরা

এসএনআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]