গভীর সমুদ্রে হাঙরের ‘সুপার হাইওয়ে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর তলদেশে সন্ধান মিলল এক সুপারহাইওয়ের, তবে এটি মানুষের তৈরি নয়। সামুদ্রিক কচ্ছপ, তিমি, হাঙর, হ্যামারহেড হাঙরেরা তৈরি করেছে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রপথ। মূলত খাবারের সন্ধান আর চলাচলের জন্য এই বিচরণপথ তৈরি করেছে তারা। সিএনএন জানিয়েছে, এই সুপারহাইওয়ে আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা এটিকে সংরক্ষণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ এবং কোকোস দ্বীপপুঞ্জের সামুদ্রিক জলাধার থেকে শুরু করে এই পথ কোস্টারিকা উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। দুই প্রান্তে সামুদ্রিক জলাধার থাকলেও হাঙর, কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রজাতির জন্য এটি বিপজ্জনকও বটে। কারণ, এই পথ দিয়ে চলাচলের সময় তারা মাছ শিকারিদের জালে আটকা পড়ে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিজ্ঞানীদের জোট মাইগ্রামারের প্রতিষ্ঠাতা ও জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যালেক্স হেয়ার্ন বলেন, এই সুপারহাইওয়ের মাঝপথে ল্যান্ডমার্কের মতো লাভাবেষ্টিত কতগুলো পাহাড় রয়েছে, যেগুলো থেকে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ নির্গত হয়; যা মাছদের চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা নিজেদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে কিংবা কোনো কিছু আঁচ করতে পারে এর মাধ্যমে। আবার পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে বিশ্রামও নিতে পারে।

jagonews24

তিনি বলেন, শুধু দ্বীপগুলোর আশপাশে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট সুরক্ষা দেয়া যথেষ্ট নয়। তারা সামুদ্রিক প্রাণী চলাচলের এই গোটা সুপারহাইওয়ে রক্ষার প্রচারণা চালাচ্ছেন। ৯৩ হাজার বর্গমাইল বা যুক্তরাজ্যের সমান আয়তনের এলাকা সুরক্ষারও দাবি তুলেছেন তারা।

কোকোস দ্বীপের ২২ কিলোমিটার এবং গ্যালাপাগোস দ্বীপের ৭৪ কিলোমিটার এখন অভয়ারণ্যের আওতায় আনা হয়েছে। এতে দুই এলাকার মধ্যে সমুদ্রের নিচে একটি সুরক্ষিত চ্যানেল তৈরি হবে।

সম্প্রতি ইকুয়েডর এবং কোস্টারিকা সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব তথ্য গবেষকদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন হেয়ার্ন। এ নিয়ে উপকূলবর্তী দেশগুলোকে এখনই ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই গবেষক।

হাঙরের অবৈধ শিকারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে সম্প্রতি। মাইগ্রামারের আরেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও টার্টল আইল্যান্ড রেস্টোরেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক টড স্টেইনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো হুমকির সঙ্গে তুলনা করলে মাছ ধরার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। উপকূলীয় দেশগুলো তাদের সমুদ্রসীমায় মাছ ধরার কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আনলে এসব সামুদ্রিক সম্পদ হয়তো সংরক্ষণ করা সম্ভব।

এসএনআর/কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]