বেয়াই সেজে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে লাখ টাকা নিয়ে উধাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪০ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
প্রতীকী ছবি

আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বাড়িতে থেকে, খেয়ে শেষে লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন চোর। যাকে বলে একেবারে সিনেমার কায়দায় চুরি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ এলাকায়। ওই ব্যক্তির নামে থানায় অভিযোগও করে ভুক্তভোগীর পরিবার। পুলিশ এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কৃষ্ণগঞ্জের দুর্গাপু্র এলাকার পুকুরপাড়ার বাসিন্দা অমর বিশ্বাসের বড় ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় হাঁসখালির গাজনা কমলপুরের বাসিন্দা অসীম শিকদারের মেয়ে অদিতির।

অসীমের পরিবারের বক্তব্য, কয়েকদিন আগে তাদের গাজনার বাড়িতে এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হন। তিনি নিজেকে অসীমের ‘ভাই’ বাবলু শিকদার বলে পরিচয় দেন। তিনি অসীমের দূর সম্পর্কে ভাই বলে দাবি করেন। অসীম এর সত্যতা যাচাই করতে আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি এমনভাবে সবকিছু বলেন, যেন তিনি অনেক দিনের পরিচিত।

অসীমের পরিবার ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করে, হয়তো সময়ের ব্যবধানে আত্মীয়কে চিনতে পারছেন না তারা। এরপর বাবলু ধীরে ধীরে তার অতীতের অনেক কথা বলেন। অনেক ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ওই পরিবারে বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করেন। এভাবেই অসীমের বাড়িতে আশ্রয় পান বাবলু।

অসীমের বাড়িতে থেকে বাজার করা, জিনিসপত্র কেনা ইত্যাদি করে পরিবারের সবার মন জয় করে নেন বাবলু। কয়েকদিনের মধ্যে পরিবারের সবার নয়নের মণি হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর অসীম তার মেয়েকে ফোনে বাবলুর কথা জানান। মেয়ে শুনে বাবাকে বলেন, ‘‌তুমি কাকাকে বাড়ি নিয়ে আসো।’ বাড়ির পাশে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় তিনি মেয়ের কথা ফেলতে পারেননি। মেয়ের কথামতো বাবলুকে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন তিনি।

এরপর মেয়ে অদিতির শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সঙ্গেও মিশে যান বাবলু। অসীম মেয়ের বাড়ি থেকে চলে গেলেও তিনি থেকে যান। কিছু কাজে সহযোগিতা করায় অদিতির শ্বশুর অমর বিভিন্ন বিষয়ে বাবলুর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে অদিতির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্ভরতা বাড়তে থাকে বাবলুর ওপর। বাবুলর কথামতো পাট বিক্রি করে মোট এক লাখ ৬০ হাজার পান অদিতির শ্বশুর। তিনি ভাবেন, এই টাকার সঙ্গে জমানো কিছু অর্থ মিলিয়ে বাড়িতে ছাদ দেবেন তিনি। এতে পাশে দাঁড়াতে চান বাবলুও।

এভাবে মোট ১২ দিন অদিতির শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন বাবলু। তারপর হঠাৎ একদিন বাবলু বলেন, ‘আমাকে জরুরি কাজে বনগাঁ যেতে হবে।’ সরল মনে বেয়াইকে (বাবলু) স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে আসেন অদিতির শ্বশুর।

এরপর খোঁজ পড়ে জমানো টাকার। দেখা যায়, সব টাকা উধাও। মোট দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নেই সেখানে। বাবলুকে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। বুঝতে অসুবিধা হয় না, আত্মীয় পরিচয়ে ঠকিয়ে বাড়ির টাকা চুরি করে পালিয়েছেন কথিত ‘বেয়াই’।

এই ঘটনার পর অদিতি গণমাধ্যমকে জানান, ‘টাকা খোয়া যাওয়ার শোকে শ্বশুরমশাই প্রায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আত্মহত্যাও করার চেষ্টা করেছেন। তার দুই ছেলে। তারাও বাইরে কাজে গিয়েছেন। এখন কী করবো ভেবে উঠতে পারছি না।’

এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]