পেগাসাসের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ইইউ কমিশনারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেলেঙ্কারির পর অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের অধিকারকে আরও সুরক্ষিত করতে ইইউকে দ্রুত আইন প্রণয়ন করার এবং অবৈধভাবে তথ্য রেকর্ড করা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপিয় কমিশনার ফর জাস্টিস দিদিয়ার রেন্ডার্স। পার্লামেন্টে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এ আহ্বান জানান তিনি। দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য।

পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিদিয়ার রেন্ডার্স জাতীয় নিরাপত্তা পরিষেবার প্রতি অভিযোগ তুলে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ফোন থেকে তথ্য চুরি করার ঘটনায় ইউরোপিয় কমিশন চরম নিন্দা জানায়।

তিনি বলেন, গোপনীয়তার বিষয়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে এমন কোন ইঙ্গিত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা দরকার।

তিনি আরও বলেন, অবশ্যই ইইউ’র প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটি এবং আমি আশা করি যে পেগাসাসের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অভিযোগলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবে এবং পুনরায় আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

ইইউ’র প্রধান শাখা, হাঙ্গেরির ডাটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত খতিয়ে দেখছে বলেন তিনি। রেন্ডার্স বলেন, এরইমধ্যে মামলা হয়েছে। গোপনীয়তা রক্ষার করার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের কথাও ভাবা হচ্ছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা পরিষেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো স্পাইওয়্যার ব্যবহার করছে, যা হ্যাকিং করে নাগরিক, সাংবাদিক এমনকি রাজনীতিবদদের তথ্য পেয়ে যায়।

গার্ডিয়ানসহ ১৭টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গত জুলাই মাসে ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপের স্পাইওয়্যার পেগাসাসের বিরুদ্ধে ফোন হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাদের টার্গেটে ছিলো মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদসহ আরও অনেকে। ২০১৯ সাল থেকে পেগাসাস প্রোজেক্ট নামে একটি অনুসন্ধানী টিম কাজ করে আসছিল। ফাঁস হওয়া ডেটাবেইসে ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বর পাওয়া যায় বলে জানায় এ টিম।

২০১৬ সাল থেকে ইসরায়েল কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোকে এ সেবা দিয়ে আসছে। প্রথম খবরে আসে পেগাসাস ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ফেসবুক মালিকানাধীন সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, চারটি মহাদেশের প্রায় ১৪০০ জনের মোবাইল পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাক করা হয়। যদিও ইসরায়েলি সংস্থা এনএসও-র দাবি করে যে, নিরাপত্তার জন্য নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি তৈরি করাই তাদের কাজ। তারা শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশের সরকার, সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রি করে থাকে।

এসএনআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]