১৪২৮ ডলফিন হত্যার ঘটনা পর্যালোচনার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

রীতি পালন করতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার ডলফিন হত্যার ঘটনা পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী স্টাইগ নিলসেন।

গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সমুদ্র উপকূলে একসঙ্গে ১৪শ ২৮টি ডলফিন হত্যা করা হয়। নরওয়েজিয়ান সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের এ ঘটনায় কঠোর সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা যায় এ তথ্য।

৭৫ বছর বয়সী ইলাভুর সেরিয়াবার্গ ও ৭৩ বছর বয়সী হ্যান্স জে হারম্যানসেন ডলফিন গণহত্যায় অংশ নেন। তারা দুজনই ফ্যারো তিমি অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান। এ ঘটনার পর কঠোর সমালোচনা শুরু হয় দেশে ও দেশের বাইরে। সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার পুনরায় ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের তিমি অ্যাসোসিয়েশনটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাদের দাবি, চতুর্থ শতকের প্রথা অনুসারে ডলফিনগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। মূলত প্রথা অনুযায়ী, প্রাণীগুলোর মাংস ও চর্বি সংগ্রহ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। নিয়ম অনুযায়ী, ডলফিনের মাংস স্থানীয়দের মধ্যে বিলি করেন তারা।

jagonews24

দ্বীপপুঞ্জটি ডেনমার্কের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক অঞ্চল। এ অঞ্চলের ৫৩ হাজার বাসিন্দার ৮৩ শতাংশ পাইলট তিমি হত্যার সমর্থন করেন রীতি পালনের জন্য। এই পাইলট তিমি ডলফিনের একটি প্রজাতি। কিন্তু ৫৩ শতাংশ সাদা ডলফিন হত্যা সমর্থন করেন না। সোমবার ক্রিংভার্প ফারোয়া নামে একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীপরাষ্ট্রে এক সময় বাস করতো দুঃসাহসী ভাইকিংদের একটি বিশেষ গোত্র। সেসময় থেকে অস্তিত্ব রক্ষার নামে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে চলে আসছে সমুদ্র উপকূলে ডলফিন বলিদানের সংস্কৃতি

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতি পালন করতে গিয়ে নির্বিচারে প্রাণী হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা এটিকে অপ্রয়োজনীয় ও নৃশংস বলে অভিহিত করেন। আবার স্থানীয় অনেক বাসিন্দাও বলেন, ডলফিনের এত মাংস একসঙ্গে চাননি তারা।

এসএনআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]