ড্রোন হামলায় ১০ আফগান নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৪ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সন্দেহভাজন আইএস সদস্যের গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিরীহ ১০ আফগান নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র। কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক দিন আগে, ২৯ আগস্ট ওই ড্রোন হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিবিসির।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট এ ঘটনার অনুসন্ধান চালায় এবং তারা জানায়, ওই হামলায় নিহতরা কেউ আইএস জঙ্গি ছিল না।

jagonews24

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে দেখা গেছে, ২৯ আগস্টে মার্কিন ড্রোন হামলায় একজন ত্রাণ সহায়তাকর্মী ও তার পরিবারের নয় সদস্য প্রাণ হারান। এর মধ্যে সাতজনই শিশু। সবচেয়ে ছোট শিশুর নাম সুমাইয়া। তার বয়স মাত্র ২ বছর।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ওই ত্রাণ সহায়তাকর্মীর একটি ব্যক্তিগত গাড়িকে শনাক্ত করে ড্রোন হামলা চালানোর আট ঘণ্টা আগে। তারা ধারণা করেছিল, ব্যক্তিগত গাড়িটি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস–কের কোনো আত্মঘাতী হামলাকারীর। তিনি আরও বলেন, এ হামলা ছিলো সত্যিই ‘মর্মান্তিক ভুল’।

jagonews24

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত ১৫ আগস্ট তালেবান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশটি থেকে লোকজন সরানো শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। সবশেষ ৩১ আগস্ট আফগানিস্তানের মাটি ছাড়েন মার্কিন সেনারা। এর মাঝে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ১৭৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৩ মার্কিন সেনাও ছিলেন। এ ঘটনার পরপরই কাবুলের দুটি স্থানে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০ বছরের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আফগানিস্তান ছাড়ার সময় এ দুটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সবশেষ হামলার ঘটনা।

দ্বিতীয় দফায় গত ২৯ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, সন্দেহভাজন আইএস সদস্যের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ওই ব্যক্তি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

jagonews24

পরে ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তের রিপোর্টে গাড়িচালকের পরিচয় জানা যায়। তার নাম জেমারি আহমাদি। ৪৩ বছর বয়সী এই প্রকৌশলী আফগানিস্তানে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংস্থা নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালে কাজ করতেন। তার স্বজনদের দাবি, আহমাদি ও তার পরিবারের আরেক সদস্য মার্কিন সেনাদের কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে যাওয়ার জন্য আবেদনও করেছিলেন।

আহমাদির পরিবার ও সহকর্মীরা আরও জানান, যে গাড়িটি আহমাদি চালাতেন, সেটি নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের। ২৯ আগস্ট তিনি বিভিন্ন স্থানে যান তার কাজের জন্য। এর মধ্যে ছিল তার বসের ল্যাপটপ নেওয়া ও সহকর্মীদের পৌঁছে দেওয়া। মার্কিন নজরদারি ড্রোন যে ভারী বস্তু তিনজনকে গাড়িতে ভর্তি করতে দেখেছিল, সেগুলো মূলত পানির কনটেইনার ছিল। কাবুলে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বাড়িতে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অফিস থেকে পানি নিচ্ছিলেন আহমাদি।

২৯ আগস্ট আহমাদি যখন বিমানবন্দরের কাছে তার বাসায় ফিরছিলেন, তখন মার্কিন ড্রোন থেকে তার গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। মার্কিন ড্রোন অপারেটর ওই সময় গাড়ির কাছে কেবল একজনকে দেখতে পান। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমাদির স্বজনদের ভাষ্যে, আহমাদি আঙিনায় পৌঁছালে তার ও ভাইয়ের ছেলেরা বের হয়ে আসে এবং গাড়িতে চড়ে বসে।

হামলায় নিহত এক শিশুর ভাই বলেন, আমরা সাধারণ একটি পরিবার ছিলাম। আমরা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএসআই) নই। এটা আমাদের পারিবারিক বাড়ি।

এসএনআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]