নয় মাস পর ফের ট্রাম্প সমর্থকদের তোড়জোড়, ক্যাপিটলে ‘হাই অ্যালার্ট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন (ইউএস ক্যাপিটল) এলাকায় ফের সমাবেশ ডেকেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা। তারা ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাবেশের কথা বললেও নয় মাস আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে আশ্বস্ত হতে পারছে না ক্যাপিটল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে সেখানে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। মোতায়েন হচ্ছে কয়েকশ পুলিশ সদস্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সমাবেশ ডেকেছেন ট্রাম্প-সমর্থকেরা। এ উপলক্ষে ক্যাপিটল ভবন ঘিরে বসানো হয়েছে আট ফুট উঁচু লোহার বেড়া। প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে। এছাড়া নিকটস্থ বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের চলছে কঠোর তল্লাশি।

‘জাস্টিস ফর জে৬’ নামে ওই সমাবেশের আয়োজকরা বলেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান আশা করছেন। তবে ক্যাপিটল পুলিশের প্রধান জে থমাস ম্যানজার শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের বলেছেন, সেখানে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

jagonews24

চলতি সপ্তাহেই ক্যাপিটলের কাছ থেকে এক মার্কিনিকে বেশ কয়েকটি বড় ছুরিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। আধিপত্যবাদী চিহ্ন ও বাক্যে ভরা ছিল তার গাড়ি। এমনকি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার হওয়ার আগেও বর্ণবাদী মন্তব্য ছুড়ছিলেন ওই ব্যক্তি।

গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে হোয়াইট হাউসের চেয়ার দখল করেন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। কিন্তু নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে পরাজয় অস্বীকার করেন ট্রাম্প। গত ৬ জানুয়ারি তার উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরপরই মার্কিন পার্লামেন্ট ভবনে হামলে পড়ে কয়েকশ সমর্থক।

jagonews24

দাঙ্গাবাজরা সেদিন ক্যাপিটল ভবনের নিরাপত্তাবেড়া ভেঙে, দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাম্প-সমর্থকদের মধ্যে একজন পুলিশের গুলিতে ও গুরুতর জখমের জেরে আরও তিনজন প্রাণ হারান। দাঙ্গাবাজদের আক্রমণে মারা যান এক পুলিশ কর্মকর্তাও। সেদিন ক্যাপিটল রক্ষার দায়িত্বে লড়াই করা চার পুলিশ কর্মকর্তা পরে আত্মহত্যা করেন।

সেই দাঙ্গার পর আরও তিনমাস কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা ছিল ইউএস ক্যাপিটল। একসময় সেখানে মোতায়েন সৈন্যের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছিল।

৬ জানুয়ারির ওই দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন সহিংসতার অভিযোগ স্বীকার করেছেন, অন্যান্য অপরাধ স্বীকার করেছেন আরও নয়জন। বিচারের অপেক্ষায় থাকা বেশিরভাগ আসামিকে অবশ্য এরই মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]