ইসরায়েলি কারাগার থেকে পালানো আরও ২ ফিলিস্তিনি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
ছবি : সংগৃহীত

কারাগার থেকে পালানো আরও দুই ফিলিস্তিনি বন্দিকে আটকের দাবি করেছে ইসরায়েল। এর আগে আটক করা হয় চারজনকে। গত ৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন গিলবোয়া কারাগার থেকে পালিয়ে যান ওই ছয় ফিলিস্তিনি। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম একটি দুঃসাহসিক ঘটনা।

ইসরায়েলি পুলিশ টুইটারে জানায়, রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের একটি বাড়ি থেকে দুই বন্দি নায়েফ কামামজি ও মুনাদেল ইয়াকুব ইনফেইয়াতকে আটক করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অভিচয় আদ্রাই বলেন, ওই দুই বন্দি একটি বাড়িতে ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দারা খবর পেয়ে বাড়িটিকে ঘিরে রাখেন। পরে তারা আত্মসমর্পন করেন। তিনি টুইটারে তাদের ছবিও প্রকাশ করেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর দুই বন্দিকে আটক করা হয়। তারা হলেন মাহমুদ আরাদেহ ও ইয়াকুব কাদেরি। তাদেরকে নাজরাথের খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান মাউন্ট প্রিসিপিস থেকে আটক করা হয়। ইসরায়েলি পুলিশের একজন মুখপাত্র এ তথ্য জানান।

এরপর ১১ সেপ্টেম্বর আরও দুই বন্দিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় ইসরায়েলের নাজারেথের বাইরে একটি লরি পার্ক থেকে জাকারিয়া জুবেইদি এবং মোহাম্মদ আরদাহ নামের দুই বন্দিকে আটক করা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর গিলবোয়া কারাগার থেকে পালান ওই ছয় বন্দি। এ ঘটনায় নড়েচেড়ে বসে ইসরায়েল। বন্দি পালানোর ঘটনা তদন্তে নামে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, তারা যখন পালিয়ে যান, তখন নিরাপত্তাকর্মীরা ঘুমাচ্ছিলেন

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের ভেতরের টয়লেটের মধ্য দিয়ে টানেল খোঁড়েন বন্দিরা। কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় খোঁড়া টানেলটি কারাগারের দেয়ালের বাইরে পর্যন্ত প্রসারিত করেছিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের ওই ছয় বন্দি যে টানেল দিয়ে বেরিয়ে যান, তার বাইরের দিকের মুখের উপরেই ‘ওয়াচ টাওয়ার’। যেখানে একজন নিরাপত্তাকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকেন।

ঘটনার দিন মধ্যরাতেও রুটিন অনুযায়ী একজন নিরাপত্তাকর্মী টাওয়ারে দায়িত্বে ছিলেন। বন্দি পলায়নের সময় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে নির্বিঘ্নে ছয় বন্দি টানেল থেকে বেরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগার থেকে পালানো ওই ছয়জনকে একটি সেলে রাখা হয়েছিল। তারা রাত দেড়টার দিকে পর্যায়ক্রমে কারাগারের সঙ্গে সংযুক্ত টয়লেটে ঢুকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর টানেলের বহির্গমন মুখ দিয়ে বের হন। পরে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, পলাতক ছয় বন্দির মধ্যে চারজন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া জুবায়েদি (৪৬)। তিনি ফাতাহ আন্দোলনের শীর্ষ নেতা। বাকি পাঁচজন ফিলিস্তিনের ‘ইসলামী জিহাদ’র সদস্য। তারা প্রত্যেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘দুর্ধর্ষ’ বলে দাবি তাদের।

ইএ/এসএনআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]