আসছে পদ্মার ইলিশ, তর সইছে না ভারতীয়দের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে ফুরাচ্ছে অপেক্ষার পালা। দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারতে দুই হাজার টনের বেশি ইলিশ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে রপ্তানির প্রক্রিয়া। বসে নেই ভারতীয়রাও। তারা যোগাযোগ শুরু করেছেন এদেশের ইলিশ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। দুয়েকদিনের মধ্যেই ভারতের বাজারে দেখা মিলবে পদ্মার বিখ্যাত রুপালি ইলিশের। মুখে লালা ঝরানো ঘ্রাণ ছড়াবে ওপার বাংলার রান্নাঘরগুলো থেকে। আর তার জন্য যেন আর তর সইছে না ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন আর দেশীয় চাহিদার কারণে ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ বাংলাদেশের। তবে গত বছর মৌসুমের শেষের দিকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয় ঢাকা। আর এ বছর যাচ্ছে তার চেয়েও প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি

পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য রপ্তানিকারক সমিতির এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই’কে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার স্থানীয় বাজারগুলোতে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি করা ইলিশের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজির মধ্যে এবং দাম হতে পারে কেজি দেড় হাজার রুপি করে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের ৫২ প্রতিষ্ঠানকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার এক চিঠিতে এই অনুমতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইলিশ মাছ রপ্তানি বিষয়ে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে শর্তসাপেক্ষে ৫২ প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত পরিমাণ ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলো। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে মোট ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানি হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ অনুমতির মেয়াদ আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

jagonews24ছবি: সংগৃহীত

এর আগে, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাছটি পাচার হয়ে কলকাতার বাজারে পৌঁছানোর খবর জানিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। মাছ বিক্রেতাদের বরাতে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছানো বেশিরভাগ ইলিশ যাচ্ছে নদীপ্রধান আঙ্গরাই-হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি সীমান্ত দিয়েও পাচার হচ্ছে কিছু ইলিশ। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের একটি সীমান্তচৌকিতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ জব্দ করেছে।

প্রচুর চাহিদার কারণে সেখানে আকাশছোঁয়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি। তারা বলেছিল, কলকাতায় প্রতি কেজি ইলিশের দাম তিন হাজার রুপিতে গিয়ে ঠেকেছে, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।

সীমান্তের দুই পাশেই বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা ইলিশ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনীতির অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করার পর ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ। সেই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এখনো। তবে গত বছর দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারতে ১ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]