জার্মানির নির্বাচনে প্রার্থীদের যত প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২১ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাতীয় নির্বাচনে প্রতিশ্রুতির ডালা নিয়ে বসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে চ্যান্সেলর পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। আঙ্গেলা মেরকেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) থেকে চ্যান্সেলর পদে দাঁড়িয়েছেন দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান আরমিন লাশেট। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) থেকে চ্যান্সেলর পদে প্রতিযোগিতা করছেন জার্মানির বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর এবং অর্থমন্ত্রী ওলাফ শোলজ। এছাড়া পরিবেশবাদী দল গ্রিন পার্টি থেকে চ্যান্সেলর পদে লড়ছেন আনালেনা বেয়ারবক।

দেশটির সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে দলগুলো৷ তাদের প্রতিশ্রুতিতে প্রাধ্যান্য পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আয়কর, নাগরিকদের অবসরকালীন ভাতা, অভিবাসন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

রক্ষণশীল দল হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ও তার সহযোগী ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের (সিএসইউ) ভোটারদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে,

জলবায়ু ও গণপরিবহন ইস্যু

ক্ষমতাসীন দলটি পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পরিবেশবান্ধব একটি বাজারব্যবস্থাও তৈরি করতে চায় তারা। আকাশপথের জন্য সিনথেটিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলছেন দলটির নেতারা। একইসঙ্গে হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার এবং জ্বালানি হিসেবে ডিজেলের ব্যবহার বন্ধের বিপরীতেই তাদের অবস্থান।

অভিবাসন ইস্যু

২০১৫ সালের শরণার্থী সংকট সামাল দিয়েছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন দল। শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজ দেশে সমালোচনার মুখেও পড়েন আঙ্গেলা মেরকেল। বরাবরের মতো দলটি এবারও আশ্রয় চাওয়াকে মানুষের মৌলিক অধিকার বলে প্রচার করেছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন

২০২৫ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫ লাখেরও বেশি নতুন ঘর বানানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন দলটির নেতারা। এদিকে, মায়েদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগী দল সিএসইউর সঙ্গে এখনও একমত নয় আঙ্গেলা মের্কেলের দল সিডিইউ।

আয়কর ইস্যু

ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক আয়ের উপর ধার্য করা কর কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি৷ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের উপর আরোপিত কর কমিয়ে আনার কথাও বলছে তারা যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি ইস্যু

বিশ্বে নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থান ধরে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল সিডিইউ৷ বিদেশে জার্মান সেনাবাহিনীর মিশনের সংখ্যা বাড়াতে চায় তারা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জলবায়ু ইস্যুর উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করার কথা বলছেন নেতারা।

ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামপন্থি দল এসপিডিও।

জলবায়ু ও গণপরিবহন ইস্যু

হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সর্বোচ্চ গতিসীমা ১৩০ কিলোমিটার করতে চায় এসপিডি। আগামীতে অন্তত ১৫ মিলিয়ন ইলেকট্রিক কার বাজারে আনতে চায় তারা। তাছাড়া ইউরোপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেলের ভাড়া কমাতে চায় দলটি।

অভিবাসন ইস্যুতে দলটির অবস্থান

ক্ষমতায় গেলে অভিবাসনের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করবে না তারা। আশ্রয়প্রার্থীদের পরিবারকে জার্মানিতে আসার সুযোগ দিতে চায় এ দলটিও।

অবসরকালীন ভাতাকে যুতসই অবস্থানে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। অবসরে যাওয়ার ন্যূনতম বয়স ৬৭-ই রাখতে চায় নেতারা। আবাসন সংকট মেটাতে প্রতি বছর এক লাখ সোশ্যাল হাউজিং ইউনিট বানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দলটি।

আয়কর ইস্যু

বামপন্থি এ দল ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি ১২ ইউরো করার ঘোষণা দিয়েছে। তাছাড়া দলটি ‘ওয়েলথ ট্যাক্স' নামে এক ধরনের করব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে যা ধনীদেরকে প্রদান করতে হবে। এছাড়া অন্যদের জন্য আলাদাভাবে করের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলছে তারা।

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি ইস্যু

বিদেশ নীতির বেলায় জলবায়ু ও বিশ্ব্যাপী ন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থা তৈরির উপর গুরুত্ব দিতে চাইছেন তারা। দেশের মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক দুই ভাগ অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করার পরিকল্পনাও তাদের। ইউরোপের নিরাপত্তায় একটি যৌথবাহিনী গড়ে তোলার কথাও বলছে দলটি যদিও ন্যাটোর সাথে তাদের সম্পর্ক বলবৎ থাকবে। তবে রাশিয়ার সাথে মুখোমুখি অবস্থানে যেতে চায় না তারা। আর চীন বিষয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে দলটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতা খুব জরুরি।

পরিবেশ নিয়ে অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি সচেতন বলে পরিচিত গ্রিন পার্টি বা সবুজ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ইস্যুও কম নয়।

জলবায়ু ও গণপরিবহন ইস্যু

২০৩০ সাল থেকে রাস্তায় কার্বনডাইঅক্সাউড নির্গমণ করে এমন গাড়ি রাখতে চায় না দলটি। তাছাড়া প্রতি টন কার্বনডাইঅক্সাইড নির্গমনের দাম ৬০ ইউরোতে উন্নীত করতে চায় তারা। যদিও স্বল্প আয়ের মানুষের বেলায় এর ব্যতিক্রমের কথা বলা হয়েছে। এদিকে, রেল যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বিমান চলাচল কমিয়ে আনার পরিকল্পনা আছে তাদের।

অভিবাসন ইস্যু

অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করতে এবং অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে সহজ করতে চায় দলটি। সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও তাদের। তাছাড়া পাঁচ বছর জার্মানিতে আছেন এমন শরণার্থীরা দেশটিতে থাকার অধিকার পায় সে বিষয়ে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপর কথা বলছে দলটি।

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন ইস্যু

মাসিক বেতনের অন্তত শতকরা ৪৮ ভাগ অবসর ভাতা হিসেবে দিতে চায় দলটি। তাছাড়া প্রত্যেকের আয় নিশ্চিতকরণ, শিশুদের মৌলিক নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম মজুরিও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সবুজ দলের নেতারা।

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি

দেশের পারমানবিক অস্ত্র সরিয়ে ফেলতে চায় দলটি। তবে ন্যাটো বাহিনীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মত দলের নেতাদের। মানবাধিকারের প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার তীব্র সমালোচনাও করছে দলটি।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

এসএনআর/এমএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]