মেয়ের বাবা হওয়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকার ফুচকা খাওয়ালেন দোকানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

বই-পুস্তকের জ্ঞান হয়তো খুব বেশি নেই, কিন্তু মন-মানসিকতার দিক বহু উচ্চশিক্ষিতকেও ছাপিয়ে যেতে পারেন ভারতের এক ফুচকা বিক্রেতা। যেখানে কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে আজও কটু কথা শুনতে হয় বহু মাকে, অনেক ক্ষেত্রে বাবাও নিজের কন্যা সন্তানকে মেনে নিতে পারেন না, সেই দেশে দাঁড়িয়েই নজির গড়ছেন ওই ব্যক্তি।

কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার খুশিতে এলাকার মানুষদের বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়েছেন তিনি। আর তা করতে গিয়ে খরচ করেছেন ৫০ হাজার রুপির বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় ধরলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, সেই ব্যক্তির নাম অঞ্চল গুপ্ত। বাড়ি ভোপালের কোলার এলাকায়। পড়ালেখা করেছেন মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।

গত ১৭ আগস্ট তার পরিবারে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এটি অঞ্চল গুপ্তের দ্বিতীয় সন্তান। বছর দুয়েক আগে তার স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। সেবারও কন্যা সন্তানই চেয়েছিলেন অঞ্চল। দ্বিতীয়বারে পূরণ হয়েছে তার সেই আশা।

কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার এই বাঁধভাঙা খুশি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন অঞ্চল। এজন্য আগে থেকেই দোকানে আসা সব ক্রেতাকে বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর দিনক্ষণ জানাতে শুরু করেন। এ কথা ঘোষণা করে একটি বোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর সেই খবর ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা শহরে। নির্ধারিত দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের সামনে লাইন পড়ে যায় ফুচকাপ্রেমীদের।

রাস্তার পাশে ফুচকার গাড়ি নিয়ে যেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন অঞ্চল, তার পাশে বসেই খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পেতে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি টেবিল। প্রতি টেবিলে এক ঝুড়ি ফুচকা, সঙ্গে এক হাঁড়ি তেঁতুল পানি ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়।

একার পক্ষে সবাইকে ফুচকা পরিবেশন করা সম্ভব ছিল না অঞ্চলের। এ কারণে অতিথিরা যেন নিজেরাই প্রয়োজন মতো ফুচকা টেবিল থেকে নিয়ে খেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।

জানা যায়, অঞ্চলের দুই ভাই প্রকৌশলী। স্ত্রীও স্নাতক পাস। এখন স্ত্রীকেও আত্মনির্ভর হতে শেখাচ্ছেন অঞ্চল গুপ্ত।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

কেএএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]