বনধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ত্রিপুরায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক ত্রিপুরা
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

কৃষকের স্বার্থবিরোধী নতুন কৃষি আইন বাতিল ও বিদ্যুতের বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সারাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যেও বনধের (হরতাল) আহ্বান জানিয়েছে কৃষকদের জোট সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সেই অনুযায়ী কোনো ধরনের পিকেটিং ছাড়াই এই বনধে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ত্রিপুরায়।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বনধের তেমন কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। সকালের দিকে কিছুটা প্রভাব দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। রাস্তাঘাট, হাঁট-বাজার থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই প্রায় স্বাভাবিক হয়ে পড়ে পরিস্থিতি। তবে কিছু মহকুমা এলাকায় এই বনধের দারুণ প্রভাব পড়েছে।

বনধকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। এমনকি বনধকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে বিভিন্ন হাঁট-বাজার ও যানবাহনে লিফলেট বিলি করেন তারা। কিন্তু সে অনুযায়ী প্রভাব পড়েনি সিকিভাগও। অফিস-আদালত খোলা থাকলেও দেখা মেলেনি সাধারণ জনগণের। মূলত বিজেপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও শ্রমজীবী সংগঠনগুলো এই বনধকে সমর্থন করেছে।

এরপরও শাসকদল বিজেপির চাপের মুখে মাথা নত করে অনেকেই জনজীবন স্বাভাবিক রেখেছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর হাঁট-বাজারের অবস্থা ছিল একেবারেই শুনসান। যান চলাচলও ছিল সীমিত।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিনশেষে রাজধানীতে একটি মিছিল ও একটি সভা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শাসকদল আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে রাজধানী আগরতলায় কোনো ধরনের মিছিল বা মিটিংয়ের অনুমতি দেয়নি।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে আহ্বায়ক পবিত্র কর বলেন, ‘শারদোৎসব বা কোভিডের শঙ্কা দেখিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও মূলত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল কিংবা মিটিংগুলোতে বাধা দিতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ১৪৪ ধারার কথা বলা হলেও এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে শপথ নিয়ে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী একটি সুবিশাল র্যালি করে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছান। কখনো শাসকদলের ধন্যবাদ র্যালি, কখনো মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশ।’ তবে কি তাদের জন্য ১৪৪ ধারা প্রযোজ্য নয়- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সোমবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকে যে বনধের ডাক দেওয়া হয় তাতে মানুষ সমর্থন দিয়ে শাসকদলের এসব অন্যায়ের জবাব দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শ্রমিক নেতা শংকর প্রসাদ দত্ত বলেন, ‘সকাল সকাল গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। হাঁট-বাজার থেকে শুরু করে যান চলাচলও প্রায় ছিল না বললেই চলে। এতে দারুণভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়ে শাসকদল বিজেপি। সে সময় বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দোকানপাট খুলতে যেমন বাধ্য করা হয় তেমনি যানচালকদেরও নামিয়ে দেওয়া হয় রাজপথে। তবে এক্ষেত্রে দোকানিরা যেমন খদ্দেরের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন, তেমনি যানচালকরাও ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রাধানগর স্ট্যান্ডের মতো ব্যস্ততম জায়গায় যেখানে দিনে তিনশোর কাছাকাছি গাড়ি যাতায়াত করে সেখানে এদিন সব মিলিয়ে গোটা ত্রিশেক যাতায়াত করলো কি না তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]