পাকিস্তানের ‘পরমাণু বোমার জনক’ কাদির খান মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির জনক ড. আব্দুল কাদির খান মারা গেছেন। রোববার (১০ অক্টোবর) সকালে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে কাদির খানের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন।

বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়ার পেছনে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হয় বিজ্ঞানী কাদির খানকে। তবে বিদেশে পরমাণু বোমার গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রখ্যাত এ বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, ড. আব্দুল কাদির খানকে দেশের মানুষ ভালোবাসতো। কারণ তিনি পাকিস্তানকে পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশে রূপান্তর করেছিলেন। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের একজন জাতীয় বীর।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষাখাতের উন্নয়নে কাদির খানের যে অবদান, তা পাকিস্তান কখনো ভুলবে না। গোটা জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

jagonews24

গত ২৬ আগস্ট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ড. আব্দুল কাদির খান। এরপর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হলে তাকে কাহুটা রিসার্চ ল্যাবরেটরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু গত রোববার তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

ড. কাদির খানের জীবন
ড. আব্দুল কাদির খান ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল অবিভক্ত ভারতের ভোপালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সপরিবারে পাকিস্তানে চলে যান।

তিনি পড়াশোনা করেছেন করাচিতে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপে যান। সেখানে ১৫ বছরের প্রবাস জীবনে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট বার্লিন, নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব ডেলফ্ট এবং বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ল্যুভেনে পড়াশোনা করেন কাদির খান।

১৯৭৪ সালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে স্বদেশে ফেরেন ড. কাদির। ফিরেই ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ স্থাপন করেন, যা ১৯৮১ সালে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল হক ড. একিউ খান রিসার্চ ল্যাবোরেটরিজ নামকরণ করেন। পাকিস্তানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে এই ল্যাবরেটরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

jagonews24

ড. আব্দুল কাদির খানকে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রাণপুরুষ বা জনক বলা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে ডাচ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অধ্যাপকদের সুপারিশে নতুন করে তদন্তের পর সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পান ড. কাদির খান।

এছাড়া, ২০০৪ সালে উত্তর কোরিয়া, ইরান ও লিবিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হন ড. কাদির। পরে এক টিভি সাক্ষাৎকারে ওই অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তিনি।

পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ কাদির খানকে ক্ষমা করেন। কিন্তু এরপর আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি তাকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, ডন
কেএএ/এসএনআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]